, , ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর সীমান্তবর্তী বাঘা উপজেলার খরাপীড়িত জনপদে একসময় পানির জন্য হাহাকার ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য। পদ্মা এবং বড়াল-সহ আশপাশের নদ-নদী শুকিয়ে খাঁ-খাঁ করছিল। নলকূপে উঠছিল না পানি। তীব্র তাপদাহে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা , ঠিক তখনই মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বাঘার আড়ানী এলাকার আনসার সদস্য সাগর আলী।এ নিয়ে “দৈনিক সান শাইন’’ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। আর সেই সংবাদ প্রকাশের পর ৪৬ তম জাতীয় সমাবেশে রাজশাহী অঞ্চলের পক্ষ থেকে তিনি পেলেন রাষ্ট্রপ্রতি পদক। তার এই পদক পাওয়াকে ইতিবাচক হিসাবে বন্তব্য করেছেন অত্র অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ।
২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল, ভয়াবহ পানি সংকটের সময় নিজের অর্থায়নে ভ্যানভর্তি পানি নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়ান তিনি। এক হাজার লিটারের পানির ট্যাংক ভ্যানে তুলে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার লিটার পানি পৌঁছে দেন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বাড়িতে। তার সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন আনসার সদস্য। তবে সাগর আলীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দ্রুতই এলাকায় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। যখন মানুষ এক বালতি পানির জন্য দূর-দূরান্তে ছুটছিল, তখন তিনি নিজের সামর্থ্য দিয়ে মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছেন জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান-পানি।
সেই সময় সাগর আলী বলে ছিলেন, “পানির অপর নাম জীবন। মানুষের কষ্ট দেখে ঘরে বসে থাকতে পারিনি। তাই নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই এই কাজ করেছি।”তার এই মানবিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সমাজের সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবে এমন মানবসেবা মূলক কাজ সমাজে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অবশেষে মানবতার সেই অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি মিলেছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও। সম্প্রতি আনসার সদস্য সাগর আলী “রাষ্ট্রপতি পদক” লাভ করেছেন। এই অর্জনে আনন্দ ও গর্বে ভাসছে পুরো বাঘা উপজেলা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পদক পাওয়ার আগেই সাগর আলী মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন-মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বড় পদ বা বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না ; প্রয়োজন শুধু মানবিকতা আর সদিচ্ছা। মানব সেবায় নিবেদিত সাগর আলীর এই অর্জন নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ বিষয়ে সাগর আলী বলেন, আমি সর্ব প্রথম “দৈনিক সান শাইন’’ পত্রিকাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করছি। কারন তারা আমাকে নিয়ে সে সময় মানবতার সেবক খেতাব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করলে হয়তো আজকে রাষ্ট্রপ্রতি পদক পেতাম না। তিনি বলেন, মানুষের দোয়া আর ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি শুধু মানুষের কষ্ট দেখে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এই রাষ্ট্রপতি পদক আমাকে আরও দায়িত্বশীল করবে। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। কারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত শান্তি ও মানবতার পরিচয় লুকিয়ে আছে।
নুরুজ্জামান /শামি