সর্বশেষ সংবাদ :

পশু খামারে স্বাবলম্বী হচ্ছে নারীরা

আসাদুজ্জামান মিঠু: রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে কৃষক থেকে দিনমজুর পরিবারের নারীদের মধ্যে গরু-ছাগল পালনের প্রবণতা বেড়েছে। বরেন্দ্রে মাঠে সবুজ ঘাস ও আমন ধানের খড়, ভুষি খেয়ে ও গ্রামের নারীদের লালন পালনে বেড়ে উঠে এসব গরু-ছাগল। এতে একদিকে পরিবারের আয়ও যেমন বাড়ছে তেমন স্বাবলম্বী হচ্ছে নারীরাও।
গ্রামে পশু পালনে খরচ কম ও গত কয়েক বছর ধরে বাজারে গরু ছাগলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে লাভের পাল্লা ভারি থাকছে ছোট খামারীদের। তাতে অল্প দিনেই গরু পালনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে হাজারো পরিবার। আর এ গরু ও ছাগল পালনের দায়িত্ব পড়েছে নারীদের কাাঁধে।
গ্রামে কৃষক থেকে দিনমুজুর এমন কোন পরিবার নেই যারা গরু বা ছাগল পালন করেছেন না। দুই থেকে ৫টি পর্যন্ত গরু পালন করছে অনেক পরিবার। নিজ বাড়িতে ছোট চালা তুলে গরু খামার গড়ে তুলেছেন তারা।
জেলায় এবার মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে। এতে কোরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, রাজশাহী বিভাগে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ছাগল, যা মোট প্রাপ্য পশুর বড় একটি অংশজুড়ে আছে। এরপর রয়েছে গরু, ভেড়া ও মহিষ।
বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর উপজেলার একেবারে প্রত্যাঞ্চলের পাঁচন্দর স্কুলপাড়া গ্রামের দিনমুজুর হাসান আলী। অন্যের কাজ করেই চলে তার সংসার। অভাব অনটনের সংসারে হাসান আলী স্ত্রী সেফালী বেগম গত তিন বছর আগে একটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ছোট সাইজের দুই গরু কেনেছিলেন। সেফালী বেগম টানা এক বছর গরু দুটি লালনপালন করে সে বছর কোরবানী ঈদে বিক্রি করেছিলেন এক লাখ ৭০ হাজার টাকায়।
সেফালী বেগম জানান, স্বামী দিনমুজুর। দুইটি ছেলে মেয়ে আছে। অন্যে কাজ কাজ করে সংসার চালানোর পরে ঘরে কোন টাকা থাকেনা। তাই সিদ্ধান্তÍ নিয়ে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রথম শুরু গরু পালন শুরু করেন তিনি। সেই বছরেই লাভের টাকা ঋণ পরিশোধ করে নিজের পুঁজি হয়ে যায় আরো দুই ছোট গরু কেনার। সেই থেকে প্রতি বছরে দুইটি করে ছোট গরু কেনা থাকে এক বছর পালন করে কোরবানী ঈদে বিক্রি করা হয়। এখন আর সংসারে অভাব অনটন নেই। লাভের টাকা জমিয়ে গত বছর ইট দিয়ে আধাপাকা বাড়ি করেছেন তারা।
একই গ্রামের হান্নানের স্ত্রী রীমা। প্রতি বছর কয়েকটি করে গরু বাড়িতেই পানল করে থাকেন। মুলত কোরবানীকে লক্ষ্য করে তারা গরু পালন করে থাকেন।

হান্নানের স্ত্রী জানান, তার স্বামী মাঠেঘাটে খেটে বেড়ান। বাড়ির গরুর যত্ন থেকে শুরু করে তিনি করেন সব। গরু পালন করে তাদের সংসারে আয় বেড়েছে।
এ স্বাবলম্বী হওয়া গল্প শুধু সেফালী বেগম বা রীমার নয়, রাজশাহীসহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলে গ্রামে গ্রামে হাজারো দিন মুজুর পরিবার পশুপালন করে কয়েক বছরের মধ্যে এমন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।
গ্রামের একাধিক কৃষক ও দিনমুজুর পরিবার জানান, গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় গরু না আসায় ও দেশের বাজারে গরুর দাম বৃদ্ধি পাওয়া গ্রামে অনেকে ছোট ছোট খামারে ঝুকেছে। অধিকাংশ খামারি নিজেদের গচ্ছিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে কোরবানির বাজার ধরার জন্য এ পশু পালন করছেন। তবে দেশে ভারতীয় গরু আসা শুরু হলে ছোট খামারীরা বড় ধরনের ধ্ক্কাা খাবে। তাতে তাদের স্বাবলম্বী হওয়া স্বপ্ন ফিকে যাবে।


প্রকাশিত: May 19, 2026 | সময়: 3:20 am | সুমন শেখ