সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘার ঢেঁড়স এলাকার চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র রপ্তানি,বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী গ্রামের আব্দুল মালেকের জীবন বদলে দিয়েছে ঢেঁড়হস চাষ। মাত্র তিন বছর আগে ১০ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ শুরু করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন তিনি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন ২ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে ঢেঁড়স উৎপাদন করছেন। এই আয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু সংসারই চালাচ্ছেন না, সন্তানের পড়াশোনার খরচও বহন করছেন।

মালেকের মতো বাঘা উপজেলার অসংখ্য কৃষক ঢেঁড়স চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এই সবজির বাণিজ্যিক চাষ এখন পুরো উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বাঘার ঢেঁড়স এখন নিয়মিত ভাবে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। চাষিরা জানান, স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, ফলে নতুন করে অনেকেই ঢেঁড়স চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাঘার চরাঞ্চল ও সমতল এলাকার আড়ানী, বাউসা-সহ বিভিন্ন অঞ্চলের মাটি সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু হওয়া সবজি চাষ এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রায় ১১ থেকে ১২শ হেক্টর জমিতে ঢেঁড়স চাষ হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে।

পদ্মার চরাঞ্চলের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, এক বিঘা জমিতে ঢেঁড়স চাষে খরচ হয় মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা, আর ভালো ফলন হলে বিক্রি করে পাওয়া যায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ফলে কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এই চাষে ঝুঁকছেন।

 

অন্য চাষি সমতল এলাকার ফজলুর রহমান বলেন, এখন বাঘার অনেক কৃষকই সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে ঢেঁড়স অন্যতম। এর স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, ঢেঁড়স বাঘার একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি ফসল। চরাঞ্চলে এর চাষ বেশি হলেও এখন প্রায় সব এলাকাতেই এর বিস্তার ঘটেছে। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে সহায়তা করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।

তাঁর মতে, ঢেঁড়স শুধু সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফলিক এসিড, আঁশ (ফাইবার) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ঢেঁরস খেলে হজমশক্তি উন্নত হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বাঘার ঢেঁড়স এখন শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্ব বহন করছে।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: May 6, 2026 | সময়: 7:52 pm | Daily Sunshine

আরও খবর