, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ সালকে বরণ করে নিয়েছে রাজশাহীবাসী। গত মঙ্গলবার ছিল পহেলা বৈশাখ। দিনটি উপলক্ষে সারাদেশের মত রাজশাহীতেও ছিল নানা আয়োজন। এদিন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ। দিবসটি উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সকাল সাতটায় কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে থেকে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানকে সামনে রেখে এক বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সিএন্ডবি মোড় ঘুরে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, ডিআইজি, আরএমপি কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ বর্ণিল সাজে এ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। সকাল পৌনে আটটায় শোভাযাত্রা শেষে শিশু একাডেমি চত্বরে দুইদিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ ও রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এরপর পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত ও বর্ষবরণের গান ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’।
পরে একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান অনুষ্ঠানে আগত সর্বসাধারণকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
বিভাগীয় কমিশনার তার বক্তৃতায় বলেন, পুরাতন বছরকে ফেলে এসে আমরা একটি নতুন বছরে, নতুন দিনে, নতুন সকালে পদার্পণ করেছি। বাঙালির ইতিহাস এবং বাঙালির ঐতিহ্য আজকে আমরা র্যালি দিয়ে শুরু করেছি। সেখানে বাঙালি জাতির অনাদিকালের যে সমস্ত ঐতিহ্য ছিল সেটা আমরা প্রদর্শন করেছি।
বজলুর রশীদ বলেন, এই মঞ্চে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হবে। আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য- এ এলাকার গম্ভীরা, আলকাপ গান এবং যাত্রাপালা এই মঞ্চে মঞ্চস্থ করবো।
তিনি আরও বলেন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল প্রশান্তি ও অনাবিল উন্নতি এবং বাংলার জয়যাত্রায় আমরা বাঙালি হিসেবে দেশ গঠনে সবাই আত্মনিয়োগ করব। আলোচনা শেষে বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পী এবং নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করে।
মহানগর বিএনপি: যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকালে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। শোভাযাত্রায় ছিল বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন উপকরণ, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। এরপর এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব, যা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা দেয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। এতে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। মহানগর বিএনপির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছর দেশের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের বার্তা বয়ে আনবে। অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড: শিক্ষা বোর্ড চত্বর হতে আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বৈশাখী অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং সকালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ‘এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে আড়ম্বরপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির গর্ব এবং একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যময় অধ্যায়। এটি একটি সার্বজনীন উৎসব তাই বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য পয়লা বৈশাখ পালন অত্যন্ত জরুরি।”
এরপর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ. ন. ম. মোফাখখারুল ইসলাম সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি সকলকে নিয়ে মিলেমিশে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের উপ-সচিব(প্রশাসন) জনাব মো. ওয়ালিদ হোসেন, উপ-কলেজ পরিদর্শক জনাব লিটন সরকার, উপ-সচিব(ভান্ডার) জনাব মোহা. দুরুল হোদা, উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক জনাব মো. ফরিদ হাসান এবং স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা জনাব সুলতানা শামীমা আক্তার। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করায় চেয়ারম্যান মহোদয় আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনের দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ ও রেকর্ডস) জনাব মো. মুঞ্জুর রহমান খান। তিনি প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে পুরো আয়োজনকে আরোও আকর্ষণীয় করে তোলেন।
রাজশাহী জেলা পরিষদ: শিশু একাডেমি চত্বরে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈসা)। এছাড়া নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। যার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক। এসময় তিনি বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে এবং নববর্ষের আয়োজনে বাঙালি সংস্কৃতির চমৎকার উপস্থাপন সত্যিই প্রশংসনীয়।” অন্যদিকে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজশাহী ডান্স এসোসিয়েশনের আয়োজনে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় বর্ণিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো.এরশাদ আলী (ঈশা)। অনুষ্ঠানে ডান্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এর আগে তিনি মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা উপভোগ করেন।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচিতে ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, বর্ষবরণ উৎসব, পান্তা-ইলিশ, পিঠা-পুলি, দেশীয় মিষ্টান্নসহ ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল এবং নানান লোকজ পরিবেশনা। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লাজা চত্বর থেকে সকাল ৯ টায় শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। ঢাক-ঢোল, পটচিত্র, ফেস্টুন, হাতপাখা, প্ল্যাকার্ডসহ শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক হয়ে খেলার মাঠের পূর্বকোণের আমবাগানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় বৈশাখী উৎসব। উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশন করা হয় নববর্ষের আগমনী সঙ্গীত, লোকসংগীত, দলীয় সংগীত, নৃত্য, আঞ্চলিক গীতিনাট্য এবং উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা। গম্ভীরার মাধ্যমে বাংলা সন প্রবর্তনের ইতিহাস এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলী দ্বীন, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. শহীদুর রহমান, প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. শামীম আহমদ, ব্যবসা ও আইন অনুষদের ডীন ড. কানিজ হাবিবা আফরিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. বায়তুল মোকাদ্দেসুর রহমান, রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল মোহাম্মদ খালেদ বিন ইউসুফ(অব.), প্রক্টর ডা. মো. আব্দুল আউয়াল, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারমিতা জামান, প্লানিং এবং ডেভেলপমেন্টের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
রাজশাহী কলেজ: বাঙালির সংস্কৃতি এবং গ্রামবাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক বাংলা নববর্ষকে তারুণ্যের উদ্দীপনায় বরণ করে নিতে রাজশাহী কলেজ দিনব্যাপী বিচিত্র ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। ‘এসো মিলি প্রাণে প্রাণে উৎসবের মিলন মেলায়’Ñ এই শ্লোগানকে ধারণ করে সকাল ৮.৩০মিনিটে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী এবং উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মোঃ ইউনুছ আলীর নেতৃত্বে ‘বাংলা বর্ষবরণ-১৪৩৩ উপলক্ষ্যে বৈশাখী শোভাযাত্রা’র আয়োজন করা হয়।
শোভাযাত্রায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শিখা সরকার, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রকার ব্যানার, ফেস্টুন, বাঙালি সংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে বিভিন্ন চিত্র সম্বলিত ব্যানার, মোটিভ এবং নববর্ষের রঙিন পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। ৯.৩০মিনিটে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী এবং উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মোঃ ইউনুছ আলী কলেজের রবীন্দ্র- নজরুল চত্বরে নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর ১০.৩০মি. এ কলেজের পদ্মপুকুর দক্ষিণ পাড়ে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী।
বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি: রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একাডেমির হলরুমে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং। প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ও একাডেমি নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ড. আ.ন.ম. বজলুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিতাস বাংলাদেশ, রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য, রাজশাহী কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামসন হাঁসদা এবং একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্য শেলী প্রিসিল্লা বিশ্বাস। আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাডেমির উপ-পরিচালক বেঞ্জামিন টুডু। তিনি বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, প্রবর্তন এবং বাঙালি জাতির জীবনে পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে হরেন্দ্র নাথ সিং বলেন, “বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের স্পন্দন। এই দিনে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সব ধরনের উৎসবে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি এই জাতির এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।”
এর আগে সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ডম বাদ্যযন্ত্রের তালে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি একাডেমির শিক্ষার্থীরা দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে নববর্ষের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে। নববর্ষের এ আয়োজন কেবল উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বাঙালি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মিলনমেলায় পরিণত হয়ে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)-এর উদ্যোগে পান্তা-ইলিশ ভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার নগরীর অলোকার মোড়ে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরইউজের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়াল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন সান্ত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক, অর্থ সম্পাদক হাবিল উদ্দিন হাবিব এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশিকুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা-ইলিশ উপভোগ করেন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। বক্তারা বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং সবাই একে অপরকে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাজশাহী প্রেসক্লাব: রাজশাহীতে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে নববর্ষ -১৪৩৩ উদযাপন ও মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ মিলনমেলা ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান’র সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন।
বর্ষবরণের মিলনমেলায় বক্তারা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালী সংস্কৃতির প্রধান উৎসব। হাজার বছর ধরে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙ্গলী এ উৎসব পালন করে আসছে। এ উৎসবকে ধারণ করে ষোলআনা বাঙালীয়ানা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, বাঙ্গলীর ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে ও বাঙালীকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে তুলতে সব প্রচেষ্টা থাকতে হবে সাংবাদিকদের। সমাজে সচেতনতা গড়ে তুলতেও অতীতের চেয়ে আরো সক্রিও ভূমিকা রাখতে হবে সাংবাদিকদের।
মৌগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ে: রাজশাহীর মোহনপুরে মৌগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রায় উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গন। শোভাযাত্রাটি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে খেলার মাঠ প্রদক্ষিণ করে। এছাড়াও চিত্রাংকন, বৈশাখি গান ও নৃত্য পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক ফজলুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, খোন্দকার ইব্রাহিম হোসেন, উম্মেআয়শা, চামেলী রানী, আলমগীর হোসেন, আসমা খাতুন, শারমিন সুলতানা, জান্নাতুন মাওয়া, ইসমতআরা খান, অরুনা খাতুন, মোসা. মুসফিক আরা প্রমুখ।
বিএনসিসি: বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), মহাস্থান রেজিমেন্টের উদ্যোগে রাজশাহী হেডকোয়ার্টার্সে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্যাডেটদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বৈশাখী ভোজ ১৪৩৩’, যেখানে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের সমাহার ক্যাডেট ও সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে আনন্দের আবহ তৈরি করে। ভোজে অংশ নিয়ে সবাই নববর্ষের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাস্থান রেজিমেন্টের রেজিমেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ গোলাম কবির, পিএসসি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে ক্যাডেটদের শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রেজিমেন্টের অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও ক্যাডেটরা উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আনন্দঘন মিলনমেলা এবং ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়।