বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সবুজ ইসলাম: রাজশাহীর পবা উপজেলায় দীর্ঘদিন থেকে একটি ভাঙা রাস্তায় চরম জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার নওহাটা পৌরসভার পবা থানার মোড় থেকে বাগধানী পর্যন্ত প্রায় ২৩০ মিটার সড়কটি অর্ধভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওহাটা, মহানন্দখালী, দুয়ারি, বাগসারা, বাগধানীসহ আশপাশের অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকেরা একসময় এই রাস্তা দিয়েই সহজে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ছোট ছোট খাদে পরিণত হয়, ফলে পথচারীদের চলাচল হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় এবং সড়কে চলাচলকারী ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন থেকে এই রাস্তা সংস্কার হয়নি। প্রায় ৮ বছর আগে শুধুমাত্র একবার কার্পেটিং করা হয়েছিল। দুয়ারি গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন,“আগে এই রাস্তা দিয়ে সহজেই ধান, সবজি নওহাটা বাজারে নিতে পারতাম। এখন ভ্যান বা ট্রাক তো দূরের কথা, হেঁটেও চলা কষ্টকর হয়ে গেছে। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, লাভ কমে যাচ্ছে।”
আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন,“রাস্তার কারণে অনেক সময় ফসল সময়মতো বাজারে নিতে পারি না। এতে পণ্যের দাম কমে যায়। আমরা বারবার বলেছি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এর আগে বলা হয়েছিল রাস্তার ট্রেন্ডার হয়েছে, কিন্তু কি যে ট্রেন্ডার হলো এখন পর্যন্ত রাস্তায় কাজ শুরু হলো না।”
স্কুল শিক্ষার্থী রাফি জানায়,“প্রতিদিন স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। বৃষ্টি হলে জুতা হাতে নিয়ে হেঁটে যেতে হয়। অনেক সময় দেরিও হয়ে যায়।” মহানন্দখালী গ্রামের অভিভাবক শারমিন আক্তার বলেন,“আমাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব চিন্তায় থাকি। রাস্তা এত খারাপ যে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” পথচারী মো. সোহেল অভিযোগ করে বলেন, “এটা শুধু রাস্তা না, যেন দুর্ভোগের আরেক নাম। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভুগছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না।”
তবে রাস্তার সংস্কারে বিষয়ে আশার বানী শুনিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নওহাটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তার কাজ দ্রুতই শুরু হবে । নওহাটা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিক হাসান বলেন,“রাস্তাটির টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ঠিকাদার কাজ বুঝে পেয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত সংস্কার কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন। তবে জনদূর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।