, , ।
আলামিন খান,জাবি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চারুকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরমান চৌধুরীর ‘বাষ্পীভূত রক্তকণিকা’ প্রদর্শনীতে বিশ্বরাজনীতির দ্বিমুখী চরিত্র ও নব্য সাম্রাজ্যবাদের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
গত সোমবার (২ মার্চ) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে এ প্রদর্শনী দেখানো শুরু হয় যা চলবে ৭ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত। ‘চারু—৫২১’ ও ‘চারু—৫২২’ কোর্সের আওতায় এ প্রদর্শনীতে শান্তির আড়ালে যুদ্ধের নীলনকশা, আধিপত্যবাদ এবং মানবিক মূল্যবোধের সংকটকে শিল্পের ভাষায় উপস্থাপন করা হয়।
‘চারু—৫২১’ কোর্সের শিল্পকর্মে নব্য সাম্রাজ্যবাদ ও নিউক্লিয়ার অস্ত্রের অহং—প্রদর্শনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এ কোর্সের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা। শিল্পী তার ধারণায় তুলে ধরেন, গত শতকের দীর্ঘ যুদ্ধ ও শীতল লড়াইয়ের রেশ ধরে একবিংশ শতকে প্রবেশ করেছে নতুন ধরনের আধিপত্যবাদ। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষমতার বিস্তারে।
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল একটি শিল্প, যার কেন্দ্রবিন্দু একটি ডাইনিং টেবিল। শিল্পীর ভাষ্যে, এই টেবিল একই সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর ও মারণাস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার প্রতীক। সাম্প্রতিক আলোচিত ‘এপস্টাইন ফাইল’—এর উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি দেখিয়েছেন, বিলাসিতার আবরণে কীভাবে গোপন রাজনৈতিক ও নৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র লুকিয়ে থাকে।
অন্যদিকে চারু—৫২২ কোর্সে তার শিল্পে ‘শান্তির আবরণে যুদ্ধ’ ধারণাকে মূল উপজীব্য হিসেবে গ্রহণ করেন। তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন চারুকলা বিভাগের কোর্স শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক ফারহানা তাবাসসুম। শিল্পী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক অদ্ভুত দ্বিমুখী বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে বিশ্বনেতাদের কণ্ঠে শান্তির বাণী, অন্যদিকে সেই শান্তির আড়ালে ধ্বংসযজ্ঞের প্রস্তুতি। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে যা ‘লিবারেল প্যারাডক্স’ নামে পরিচিত। জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উক্তি “ যুদ্ধই শান্তি” যেন আজ বাস্তবতায় প্রতিফলিত।
শিল্পী তার কাজে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, কীভাবে শান্তিচুক্তির হাত দিয়েই অনুমোদিত হচ্ছে মরণাস্ত্রের বাণিজ্য। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো শান্তি রক্ষার নামে দুর্বল দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এই প্রভাব স্পষ্ট। তার ভাষায়, শান্তির মুখোশ আসলে গোয়েন্দা তৎপরতা ও ক্ষমতা সংরক্ষণের কৌশল।
এই শিল্পে শিল্পী বেছে নিয়েছেন বাটিক মাধ্যম। মোম ও রঙের স্তরে স্তরে ফুটে উঠেছে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ও বৈশ্বিক অরাজকতার চিত্র। পাশাপাশি মেটাল, টাই—ডাই ও অ্যাপ্লিকের মতো উপাদান ব্যবহার করে বিমূর্ত ও আধাবিমূর্ত অবয়বে নির্মিত হয়েছে চিত্রপট ও ভাস্কর্যধর্মী ফর্ম। ভিডিও ও ইনস্টলেশনের সমন্বয়ে পুরো উপস্থাপনাটি পেয়েছে বহুমাত্রিক রূপ।
সানশাইন /শামি