, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর সোনাদিঘির পাড়ে এক একর জমির ওপর নির্মিত নতুন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
এর আগে তিনি শহীদ মিনার চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরবর্তীতে শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ‘একুশ : জাতীয় জাগরণের প্রেরণা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি দীন মোহাম্মদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান। ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আকুঞ্জি অনুষ্ঠানে হৃদয়গ্রাহী বক্তৃতা করেন।
এর আগে, রাতেই নবনির্মিত এই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনেকেই খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করেন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ছিল শোক, গর্ব ও আত্মমর্যাদার এক অনন্য আবহ।
মহানগর জামায়াত: শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দাওয়াতুল ইসলাম ট্রাস্ট মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর এ্যাড. আবু মোহাম্মদ সেলিম। রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিমউদদীন সরকারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মন্ডল সহকারী সেক্রেটারি শাহাদাৎ হোসাইন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো: সালাউদ্দিন।
বিএমডিএ: রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজশাহী সোনাদীঘি এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মোঃ কামরুজ্জামান, এনডিসি, (অতিরিক্ত সচিব) এর নির্দেশনায় বিএমডিএ‘র সচিব মোঃ মেহেদী হাসান এর উপস্থিতিতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ জিন্নুরাইন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন উর রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম ওবায়দুল্লাহ, উপ-পরিচালক মোঃ মাহফুজুল হক, রাজ(২০৮৮) সিবিএ সভাপতি মো: মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ফারুকসহ সংগঠনের সকলে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর এ প্রধান প্রকৌশলী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপক কৃষি, মনিটরিং অফিসার ও সহকারী প্রকৌশলীবৃন্দ সহ সকলে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত উত্তোলন করা হয়। বাদ যোহর দুপুরে বিএমডিএ জামে মসজিদে মহান শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া এদিন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নযয়ন কর্তৃপক্ষ, প্রধান কার্যালয়সহ আওতাধীন স্ব-স্ব দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্ববক অর্পণ করেন।
রুয়েট: রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উপাচার্যের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ রুয়েটস্থ বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রুয়েট দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক এবং ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমূহে বিভিন্ন অনুষদের ডীন, সকল পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর ও শাখা প্রধান, হল প্রভোস্টবৃন্দ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মাতৃভাষা বাংলা সহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক।
রাসিক: রাত ১২ টা ০১ মিনিটে সোনাদিঘি মোড়স্থ রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ। এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল আল মঈন, বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নুর-ই-সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) সুব্রত কুমার সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সারওয়ার হোসেন খোকন, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু, ,হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নিজামুল হুদা, সিটি হাসপাতালের ইনচার্জ ও আবাসিক চিকিৎসা ডা. তরিকুল ইসলাম বনি, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) শাহেদুজ্জামান জীবন, নগর পরিকল্পনাবিদ বনি আহসান, স্থপতি জহুরুল আনোয়ার অনন্ত, চীফ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার আজিজার রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মনিটরিং কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান জিতু, সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা রকিবুল হক তুহিন, রাসিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শাকিল, সাধারণ সম্পাদক মো. সানারুল ইসলাম ছবি সহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ সহ অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাকাব: রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সাহেব বাজার বাটার মোড়ে সমবেত হয়ে র্যালি সহকারে রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীগণসহ প্রধান কার্যালয়ের সকল উপ-মহাব্যবস্থাপক ও বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ; প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট; স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়, রাজশাহী; বিভাগীয় কার্যালয়; বিভাগীয় নিরীক্ষা কার্যালয়; জোনাল কার্যালয় ও জোনাল নিরীক্ষা কার্যালয়, রাজশাহী এবং এসইসিপি, রাজশাহীসহ রাজশাহী জোনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। একই সময়ে রাকাব কর্মচারী সংসদ (সিবিএ); অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন; কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং এসইসিপি, রাজশাহী পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
আরইউজে: রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)-এর পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ০১মিনিটে রাজশাহী নগরীর সোনাদিঘীতে নবনির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা: আব্দুল আউয়াল এবং সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্তর নেতৃত্বে কর্মসূচিতে বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, আরইউজের সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক, কোষাধ্যক্ষ হাবিল উদ্দিন হাবিব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশিকুর রহমান, নির্বাহী সদস্য সোহেল মাহবুবসহ ইউনিয়নের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন: রাজশাহী জেলা কমিটি। রাত ১২ টা ১ মিনিটে সংগঠনের সভাপতি আয়েশা আক্তার লিজার নেতৃত্বে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এই সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন এর সভাপতি আয়েশা আক্তার লিজা বলেন, এদিন আমাদের প্রেরণার। এই প্রেরণা থেকেই আমাদের স্বাধীনতার পথচলা। যখন পশ্চিমারা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তখন ছাত্ররা আত্মত্যাগের মাধ্যমে মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল। সাধারণ সম্পাদক মোসা. ফাতেমা আক্তার বলেন, আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছি।ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাসকে নতুন করে অনুভব করি।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন: ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করেছে। এদিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী’র কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান পরিচালক, প্রশাসন ও অর্থ) প্রফেসর মহাঃ হবিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ লিয়াকত আলী, কোষাধ্যক্ষ মোঃ মনোয়ার হোসেন সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল গফুর, নির্বাহী সদস্য মোঃ এনামুল হক, আজীবন সদস্য প্রফেসর ড. জোবাইদা আয়েশা সিদ্দিকা, আজীবন সদস্য মোঃ আব্দুল মাজেদ এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী পরিচালিত ‘ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট রাজশাহী’র সহকারী পরিচালক ডাঃ মোঃ তাজমিলুর ইসলাম লিয়নসহ অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
রাজশাহী কলেজ: একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২:০১ মিনিটে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মোঃ ইউনুছ আলী রাজশাহী কলেজের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রভাত ফেরি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইব্রাহিম আলী। কলেজ মিলনায়তনে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও তাৎপর্য -শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মোঃ ইউনুছ আলী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান, মুখ্য আলোচক প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল হাদী এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শিখা সরকার। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মহোদয় বলেন, বাংলা ভাষার শুদ্ধচর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে একুশের চেতনাকে যথাযথভাবে ধারণ করা সম্ভব। মহান একুশের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে সুখি-সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসার জন্য তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। মুখ্য আলোচক প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল হাদী বলেন, নৈতিক জ্ঞানভিত্তিক, উন্নত সাংস্কৃতি চিন্তাসমৃদ্ধ জাতিগঠনে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি: যথাযথ মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। দিবসটি উপলক্ষে সকালে ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে রাবি প্রধান গেট থেকে একটি প্রভাতফেরি বের হয়। উপাচার্য প্রফেসর ড. এম ছায়েদুর রহমান এবং মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর মো. আনসার উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রভাতফেরি শেষে রাবি শহীদ মিনারে ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় । এরপর সেখানে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও নিরবতা পালন করা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক রিয়াজ মোহাম্মদ, রেজিস্ট্রার ড. আজিবার রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মকসুদুর রহমানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা-এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্লাজা চত্বর হতে প্রভাতফেরি বের করা হয়। যা অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। সে সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাসকে স্মরণ করেন এবং ভাষার মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। কর্মসূচীর দ্বিতীয়পর্ব শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও একুশভিত্তিক আলোচনা দিয়ে। আলোচনা পর্বে উপস্থিত ছিলেন, উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা, কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. শহীদুর রহমান, প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. শামীম আহমদ, ব্যবসা ও আইন অনুষদের ডীন ড. কানিজ হাবিবা আফরিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. বায়তুল মোকাদ্দেসুর রহমান, রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল মোহাম্মদ খালেদ বিন ইউসুফ (অব.) এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারমিতা জামানসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার ও মো. নাফিজ আহমেদ।