, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার জীবন সংগ্রাম করে উঠে আসা নারীদের উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিস থেকে চার জন নারীকে জয়িতা নির্ধারণ করে তাদের পুরুষ্কার প্রদান করা হয়। এঁরা হলেন, মোসাঃ লাইলী বেগম, নাজিমা খাতুন, মোসাঃ মার্জিয়া বেগম ও মৌসুমী আক্তার।
অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী: লাইলী বেগম একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সে বিবাহিত হয়ে পরিবারিক অভাব ও সংসারের চাপের মধ্যেও তিনি হাল না ছেড়ে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের চেষ্টা করেন। সংসারের খরচ ও পরিবারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে তিনি গবাদি পশু ও হাঁস মুরগী পালন শুরু করেন। পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন এবং সেই আয় দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের উন্নয়ন নিশ্চিত করেন। বর্তমানে তিনি নিজের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন সফলভাবে অবদান রেখে চলেছেন।
নির্যাতনের দুঃখ মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী: মোসাঃ নাজিমা খাতুন একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সেই পিতাকে হারিয়ে পরিবারে নেমে আসে চরম দুঃখ ও অভাব। সংসারের মৌলিক চাহিদা পূরণে তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন সংগ্রাম শুরু করেন। পরবর্তীতে বিবাহিত জীবনেও নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হলেও তিনি ভেঙ্গে না পড়ে সাহসের সঙ্গে সন্তানদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চরম প্রতিকূলতা, একাধিকবার সংসার ভাঙ্গন এবং একাই সন্তান প্রতিপালনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তিনি সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবন এগিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব পালন করে আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করছেন।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান অর্জনকারী নারী: মার্জিয়া বেগম,পিতাঃ মোঃ আব্দুল হক, মাতাঃ মোসাঃ আফিফা বেগম এর কন্যা। তিনি ফুটানীবাজার, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং এসএসসি পাশ করেন। পারিবারিক অভাব-অনটন,স্বামীর কর্মসূত্রে বাইরে অবস্থান এবং সন্তানদের দায়িত্ব একাই বহন করেও তিনি হার মানেননি। তিনি নিজে স্বাবলম্বী হয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিত থেকে সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে: মৌসুমী আক্তার। একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক অভাব, সামাজিক বাধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি শিক্ষা জীবন চালিয়ে যান। ২০১৭ সালে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যায়নরত শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন এবং নারী ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত হন। বর্তমানে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিজ এলাকায় নারীদের সচেতনতা ও উন্নয়নমূলক কাজে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পঙ্কজ কুমার দাস বলেন এই চার জন মহিলা অত্যন্ত অসহায় তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি তাদের নির্ধারণ করে জয়িতা পুরস্কারে প্রদান করে।