সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহী বিভাগ : ৩৯ আসনের ২৮টিতে বিএনপি ও ১১টিতে জামায়াত বিজয়ী

স্টাফ রিপোর্টার: বহুল প্রত্যাশিত ও প্রশংসিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯ টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে বিএনপি, ১১টিতে জামায়াত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এই আসনগুলোতে স্বতস্ত্র বা অন্য কোন দলের প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেন নি। বিএনপি ও জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাদে প্রায় সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভাগের ৩৯ টি আসনের মধ্যে রাজশাহী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।
এরা হলেন, রাজশাহী-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মুজিবুর রহমান এক লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। রাজশাহী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু এক লাখ ২৫ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৪৬৬ ভোট।
রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল হক মিলন এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন এক লাখ ৩৬ হাজার ৫৬৫ ভোট। রাজশাহী-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার এক লাখ ১৮ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান পেয়েছেন এক লাখ ৯ হাজার ৭৫৯ ভোট। রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মণ্ডল এক লাখ ২৩ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মনজুর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৮৭৩ ভোট। রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ এক লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী নাজমুল হক পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট।
নওগাঁয় জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপি ও একটি জামায়াত ইসলামী বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
নওগাঁ-১ (সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর) ভোটকেন্দ্র ১৬৬টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী মোস্তাফিজুর রহমান ধানের প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহা. মাহবুবুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়েছে।
নওগাঁ-২ (ধামইরহাট ও পত্নীতলা) ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. এনামুল হক ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম সামসুজ্জোহা খান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩। নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) ভোটকেন্দ্র ১২৪টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী মো. ফজলে হুদা ধানের শিষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়েছে।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) ভোটকেন্দ্র ১১৭। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ইকরামুল বারী টিপু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাকিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়েছে। নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) ভোটকেন্দ্র ১১৮টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলাম ধলু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু সাদাত মো. সায়েম ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩ হাজার ২৩৬ ভোট পেয়েছে।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) ভোটকেন্দ্র ১১৫টি আসন। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, শীষ প্রতীকে শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ১ লাখ ৮ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খবিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৫ হাজার ৮৮৬ ভোট পেয়েছে।
উল্লেখ্য, নওগাঁর ৬টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
নাটোরের চারটি আসনের সব কটিতেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় সব ভোটকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে তারা বিজয়ী হন। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪১৯ ভোট।
নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সবগুলো কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭১০ ভোট।
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের দাউদার মাহমুদ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩০৯ ভোট। এছাড়া নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭৭ ভোট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদীয় ৩টি আসনেই জামায়াতের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে ৪৪হাজার ৩৮১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী ড. কেরামত আলী। তিনি পোস্টালসহ ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৮৯৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান মিঞা পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫১৫ ভোট। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান ১৭ হাজার ৪৪৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পোস্টালসহ মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজর ১৮৫ ভোট।
অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বেসকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৬২ হাজার ৬৪৩ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পোস্টালসহ ১লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদ পোস্টাল ভোটসহ পেয়েছেন ১লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্মা ও জেলা প্রশাসক মোহাাম্মদ শাহাদাত হোসেন মাসুদ পোস্টাল ভোট একীভূত করে ফলাফল ঘোষণা করবেন।
পাবনার ৫টি আসনের মধ্যে দুই আসনে বিএনপি, ৩ আসনে জাময়াতে ইসলামী বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছে। ‎বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা এসব ফলাফল ঘোষণা করেন।
বিজয়ীরা হলেন- পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ‎অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৩ ভোট। এছাড়া এ আসনে ইসলামী আনন্দোলনের আব্দুল গণি ও মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রাথী তাজুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
‎পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিব ২ লাখ ১৩ হাজার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক কেএম হেসাব ৭৫ হাজার ৯০৪ ভোট পান। হাতপাখা মাওলানা কাশেমী ৫ হাজার ৮৩২ ভোট পান।
‎পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে বেসরকারিভাবে জামায়াত প্রার্থী আলী আছগার বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন(ধানের শীষ) ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট।
‎পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল পাবনা জেলা জামায়াতের আমির মো. আবু তালেব মন্ডল (দাঁড়িপাল্লা) বিজয়ী হয়েছে। তিনি পেয়েছেন, ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন, ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।
‎পাবনা-৫ (পাবনা সদর) আসনে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ধানের শীষ প্রতীকে বিজয় হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ১৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৮৬ ভোট পেয়েছেন। ‎পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভোট দারুণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ। জেলার ৫টি আসনে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুটি আসনে জয় লাভ করেছে। আর জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীক ৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং একটিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আসনগুলোর মধ্যে-সিরাজগঞ্জ-১ (সদরের ৪টি ইউনিয়ন ও কাজিপুর উপজেলা) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬শত ১৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. শাহিনুর আলম পেয়েছেন ১লাখ ৮ হাজার ৮শত ১৫ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৭ হাজার ৭শত ৯৮ভোট।
সিরাজগঞ্জ-২ (সদরের ৬টি ইউনিয়ন ও কামারখন্দ উপজেলা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১লাখ ৭৭ হাজার ৫শত ৭৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭শত ৯৭ ভোট পেয়েছেন। তাদের দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৩৮ হাজার ৭শত ৮১ ভোট।
সিরাজগঞ্জ- ৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪শত ৩০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুহা. আব্দুর রউফ সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৮ শত ২ ভোট। তাদের দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৫৭ হাজার ৬ শত ২৮ ভোট।
সিরাজগঞ্জ- ৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম খান বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮শত ৭২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. আকবর আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২শত ৭৮ ভোট। তাদের দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৫শত ৯৪ ভোট। সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলীম বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১লাখ ৩৪ হাজার ৯শত ৮৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম পেয়েছেন ১লাখ ৬ হাজার ৮শত ৫ ভোট। তাদের দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২৮ হাজার ১শত ৮৪ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম. এ মুহিত বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫শত ৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী এস.এম.সাইফ মুস্তাফিজ পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৮ শত ৮৪ ভোট। তাদের দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৬৭ হাজার ৬শত ২৪ ভোট। জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বেসরকারীভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেছেন। সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে ৩৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে ২৭ জন প্রার্থী জামানত বাতিলযোগ্য ভোট পেয়েছেন।
জয়পুরহাটের দুটি সংসদীয় আসনে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জয়পুরহাট-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ এবং জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল বারী বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আল-মামুন মিয়া বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদ রানা প্রধান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ ভোট। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ফজলুর রহমান সাঈদ ৯ হাজার ৮৮৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যমতে, এ আসনে পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রসহ মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৫২টি এবং মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৭৩ জন। প্রদত্ত ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৬টি ভোটের মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮২টি ও বাতিল ভোট ৬ হাজার ৫৭৪টি। এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার ১৩ হাজার ২৮৬ ভোট, বাসদ-মার্কসবাদীর তৌফিকা দেওয়ান ৬১৭ ভোট এবং বাসদ প্রার্থী ওয়াজেদ আলী ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন।
জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুল বারী। তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫১৭ ভোট। ফলে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বারী।
এই আসনে পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রসহ ১০৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন। মোট ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৬০টি ভোট পড়েছে। এর বিপরীতে ৬ হাজার ২৩টি ভোট বাতিল হয়েছে। এছাড়া এই আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী এস এ জাহিদ ঈগল প্রতীকে ১ হাজার ৫৫৫ ভোট পেয়েছেন।
বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের ছয়টিতে বিপুল ভোটে এবং একটি আসনে তুলনামূলক কম ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান বেসরকারিভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। সবগুলো আসনেই বিএনপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ১ লাখ ১২ হাজার ৯২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯৩৩ ভোট।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মীর শাহে আলম ৫২ হাজার ৭০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৪৩৩ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪০ জন।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি) আসনে বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নূর মোহাম্মদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট। তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ১৬ হাজার ৩৮০।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোশাররফ হোসেন ৪৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬৫ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৩ জন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. দবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৫ হাজার ৫১২।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। এ আসনে তার জয়ের ব্যবধান ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোট।
বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনে বিএনপির মোরশেদ মিল্টন ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট।


প্রকাশিত: February 14, 2026 | সময়: 4:02 am | সুমন শেখ