, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: যারা ৭১ সালে এই দেশের বিরোধীতা করেছে, পাকিস্থানীদের সাথে হাত মিলিয়ে মা-বোনদের ইজ্জত নিয়েছে, তারা এখন দেশ শাসন করতে চাই। এ জন্য দাড়ি-পাল্লায় ভোট দেয়ার মাধ্যমে জান্নাতের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। ওরা ধর্মের নামে মিথ্যচার ছড়িয়ে এবার নারী কর্মীদের মাঠে নামিয়েছে। অধচ বিগত সময় গুলোতে তারাই বলতো, নারী নেতৃত্ব পরিহার করুন। এই হলো ধর্মের নামে পরিচালিত জামাতে ইসলামীর রাজনীতি।
শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি আসন্ন ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাঘা পৌর এলাকায় দিনব্যাপী ৯ টি ওয়ার্ডের ১৫ টি মঞ্চে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা মূলক সভা মঞ্চে এসব কথা বলেন। একই সাথে এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
লোকজন বলছেন, রাজশাহী-৬ চারঘাট বাঘায় সরব হয়ে উঠেছে নির্বচনী প্রচারণা। শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি বাঘা পৌর এলাকায় দিনব্যাপী ৯ টি ওয়ার্ডের ১৫ টি মঞ্চে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা মূলক সভা করেছেন।
এই সভায় তিনি স্থানীয় ভোটারদের মুখে নানা সমস্যার কথা শোনার পর গ্রামীণ অবকাটামো উন্নয়ন ও সরকাররি সহায়তা সহ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তাঁর দেয়া প্রতিশ্রুতির ফুল ঝুরিতে আশায় বুক বেঁধেছেন স্থানীয় ভোটাররা।
স্থানীয় লোকজন জানান, প্রায় দেড় যুগ পর নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজনে সর্বত্রই চলছে উৎসবের আমেজ। কয়েক জায়গায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামান্য কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ।
অনেকেই বলছেন, এবার প্রার্থীদের পোস্টার না থাকায় পরিবেশও স্বাভাবিক। ভোটারদের টানতে প্রায় সকল প্রার্থীরাই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অনেকেই বলছেন, এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভাষছে দেশ। কার্যত প্রার্থীদের প্রশ্রিুতির বন্যায় ভাসছেন ভোটাররা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানান প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফোটাচ্ছেন। এর ফলে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম অবস্থা বিরাজমান।
এদিকে শুক্রবার বাঘা পৌর এলাকায় গণসংযোগ কালে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, এবার জামাতের নারী কর্মীরা মানুষের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ধর্মের নামে নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভোট নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোন-কোন এলাকায় জামাত নেতারা বলছেন, এবার দাড়ি-পাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতের টিকিট পাওয়া যাবে। তবে তাদের কথায় কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। আপনারা ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।
১৯৭১ সালে পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে জামাত নেতারা এই দেশকে পাকিস্থানীদের হাতে তুলে দিতে চেয়ে ছিল এবং এ দেশের ৩০ লক্ষ মানুষকে নির্মম ভাবে হত্যা সহ লক্ষ-লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত নিয়ে ছিলো। তারা সে সময় স্বাধীনতা চাননি। অথচ আজ তারা কথায়-কথায় মা-বোনের নিরাপত্তার কথা বলে দেশ পরিচালনা করতে চাচ্ছেন। এটা এক ধরনের ধোকাবাজি। তারা পাশ করলে এই দেশ পাকিস্থানীদের কাছে বিক্রী হয়ে যাবে। এ জন্য ১১টি দলকে সাথে নিয়ে জোট বেঁধেছেন তারা। আপনারা ভুলেও তাদের কথায় কান দিবেন না।
চাঁদ আরো বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি নিজেকে একজন মজলুম মানুষ দাবি করে বলেন, দলের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমি বহুবার কারাগারে কাটিয়েছি। সেখানে থাকা অবস্থায় আমি আমার স্ত্রী এবং মাকে হারিয়েছি। তবুও দল থেকে দুরে সরে যায়নি। এ জন্য দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা ও দলীয় প্রধান মরহুম প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। আমরা এই দেশকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আমি ওয়াদা করে যাচ্ছি, যদি আপনাদের ভোটে আমরা সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে যার-যা সমস্যা আছে ইনশাল্লাহ সব দুরকরা হবে। আপনাদের সন্তানরা চাকরি পাবে। তাদেরকে লেখাপড়া শেষ করে আর বেকার বসে থাকতে হবেনা।
ইতোমধ্যে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিতে সব কথা উল্লেখ করেছেন। আমি আপনাদের এলাকার কৃতিসন্তান হিসাবে ধানের শীষে একটি করে ভোটের আবেদন রেখে গেলাম।
এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাবেক বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার শামসুজ্জোহা, সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশরাফুদৌলা, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মুখলেছুর রহমান মুকুল, জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক শামিম সরকার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, যুবদল নেতা আব্দুস সালম ও শফিকুল ইসলাম শফি-সহ সকল ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক এবং সহয়োগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।