বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণায় আইবিএস অগ্রপথিক: রাবি উপাচার্য

রাবি প্রতিনিধি: “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস) এক অনন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা ও পথনির্দেশের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। ৫০ বছরে এই প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি সমাপনের পর খুব স্বল্প সংখ্যক গবেষকই পরবর্তী গবেষণা করেছেন। আমি আশা রাখব গবেষকরা এই বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দিবেন। যাতে করে তাদের অ্যাকাডেমিক কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়ে পড়ে।
আইবিএস-এর গবেষকরা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও মেধা দিয়ে দেশ-বিদেশে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ফলে বিশ্বে বাংলাদেশ বিষয়ে বিশেষায়িত গবেষণায় আইবিএস আজ এক ঐতিহ্যের নাম। আইবিএস-এর চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না এবং এখনও নয়। কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা নয়। এই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রিধারীরা দেশ-বিদেশে অনেক উচ্চপদে আসীন ছিলেন ও আছেন। আইবিএস-এর অ্যালামনাই এসোসিয়েশনও যথেষ্ট সক্রিয়। আমি আশা করব যে, এসোসিয়েশন তাদের সদস্যদের নিয়ে ভেবে দেখবেন এই প্রতিষ্ঠানের জন্য তারা কতটা ‘প্রোঅ্যাকটিভ’ ভূমিকা রাখতে পারেন। আমি আশাবাদী যে, এসোসিয়েশন বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করলে অবশ্যই আইবিএস-এর উন্নয়নে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন।
আইবিএস-এর গবেষণাগুলো লক্ষ্য করে আমি দেখতে পাই যে, এসব গবেষণার সিংহভাগই হয়েছে প্রকল্পভিত্তিক, নীতিভিত্তিক নয়। বাংলাদেশ একটি জীবন্ত গবেষণাগার। এখানে অনেক বিষয়ে গবেষণার এবং তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। সামগ্রিকভাবে আইবিএস সে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অনুধাবনের চেষ্টা করবে বলে আমি মনে করি।
আইবিএস থেকে গত ৫০ বছরে যেসব গবেষণা হয়েছে তাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুরুত্ব পাইনি। আমি আশা করব যে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও গুরুত্ব পাবে। আইবিএস-এর কাঠামোগত সংস্কারের মধ্য দিয়ে গত ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা বিচার করে পরবর্তী ৫০ বছরের জন্য তারা প্রস্তুতি নিবেন। এই সুবর্ণ জয়ন্তী ও অ্যালামনাই সম্মেলন সেই লক্ষ্যে এক মাইলফলকের ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।”
উল্লেখ্য, আইবিএস-এর সুবর্ণ জয়ন্তী ও ১৫তম ত্রিবার্ষিক অ্যালামনাই সম্মেলন আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত এ সম্মেলন চলবে। আজ সকাল ১০টায় সিনেট ভবনে এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা: ফরিদ উদ্দীন খান। আইবিএস-এর পরিচালক প্রফেসর এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে সুবর্ণ জয়ন্তী বক্তা ছিলেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ্ সিদ্দিকী। এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর মো. ফজলুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ | সময়: ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর