আত্রাই খাদ্যগুদামে শতভাগ সংগ্রহ আমন ধান ও চাল

আত্রাই প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে সরকারি খাদ্যগুদামে শতভাগ আমন ধান ও চাল সংগ্রহ হয়েছে। এবারের আমন মৌসুমে এ উপজেলায় আমন ধানের ফলন বিপর্যয় হলেও সরকার নির্ধারিত পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, এবারে আত্রাই সরকারি খাদ্যগুদামে ৭২ মে. টন আমন ধান ও ৯০ মে. টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এদিকে আমন ধান উৎপাদনের মূল মৌসুমে আকস্মিক বন্যায় অধিকাংশ কৃষকের ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়।
ফলে আমন ধান উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন এলাকার হাজার হাজার কৃষক। উপজেলার শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, মনিয়ারী ইউনিয়ন আমন ধান উৎপাদনে বিশেষভাবে খ্যাত। কিন্তু গত বন্যায় এ তিন ইউনিয়নের কৃষকরা আমন ধানে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এরপরও অন্যান্য ইউনিয়নে কিছুটা আমন ধান উৎপন্ন হয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের তৎপরতায় উপজেলার ৮ ইউনিয়নের কৃষকদের নিকট থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ৭২ মে. টন ধান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার ৯ জন নিবন্ধিত মিলারের নিকট থেকে ৯০ মে. টন চাল স্থানীয় খাদ্যগুদামে সংগ্রহ করা হয়েছে।
মেসার্স জামান চাউলকল-২ এর স্বত্বাধিকারী নাজমুজ্জামান ভুট্টু বলেন, উপজেলা জুড়ে আমরা ৯ জন মিলার খাদ্যগুদামে চাল বিক্রির জন্য নিবন্ধিত হয়েছিলাম। আমার মিলের অনুকূলে ১২.৫ মে. টন চাল বরাদ্দ ছিল। যথাসময়ে আমরা ৯ জন মিলার ৯০ মে. টন চাল খাদ্যগুদামে সরবরাহ করেছি।
উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) বলেন, গত নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ থেকে আমন ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও তার আগেই আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এবারে কৃষকদের কাছ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে আমন ধান এবং ৫০ টাকা কেজি দরে মিলারদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করা হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামসুন্নাহার বলেন, আমরা এলাকার কৃষক ও মিলারদের কাছ থেকে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে আমন ধান ও চাল সংগ্রহ করেছি। কোনো কৃষক বা মিলার যেন খাদ্যগুদামে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ | সময়: ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ