ডাক্তার নয়, কিন্তু করতেন ব্রেনের চিকিৎসা

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারাঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে অবস্থিত আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। রবিবার পরিচালিত এ অভিযানে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে আটক হন নুরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডা. মো. রফিকুল হাসান নামে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম রাজশাহীর বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর অ-৩৪৭৯৭ ব্যবহার করে নিজেকে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেন। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধুমাত্র এইচএসসি পাস।
এছাড়া এই ভুয়া ডাক্তার সাইনবোর্ডে ভুয়া ডিগ্রি ও পরিচয় ব্যবহার করে আসছিলেন। দেখা যায়, আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের ভেতরে ও চেম্বারের সাইনবোর্ডে তাকে “ডা. মো. রফিকুল হাসান, এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন)”এবং জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। সাইনবোর্ডে আরও উল্লেখ ছিল-তিনি ব্রেইন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা প্রদান করেন। কিন্তু তদন্তে এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বলে প্রমাণিত হয়।
অভিযানের সময় বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞার কাছে প্রসিকিউশন দাখিল করেন।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৮(৩) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এছাড়া আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের মালিক মশিউর রহমানকে জেনে-শুনে ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোগিদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ভুয়া চিকিৎসক শুধু ভবানীগঞ্জেই নয়, তিনি আত্রাই উপজেলার সেভেন স্টার ক্লিনিকসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসা দিতেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
এদিকে আত-তাবারা মডেল হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অতীতেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট, ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা, ভুল চিকিৎসা ও অব্যবস্থাপনার কারণে রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা দীর্ঘদিন চোখে পড়েনি।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা জানান, “জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভুয়া ডাক্তার, অননুমোদিত ক্লিনিক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।”


প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬ | সময়: ১:২৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর