সর্বশেষ সংবাদ :

বেগম খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন: মিলন

স্টাফ রিপোর্টার: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। কারণ শত নির্যাতন সহ্য করেও তিনি দেশে থেকেছেন। কখনো দেশ ছেড়ে পালালনি। আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় হরিয়ান ইউনিয়ন এলাকাবাসীর আয়োজনে শুক্রবার বিকেলে হরিয়ান সুগারমিল মাঠে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কারাগারে অসুস্থ হলেও তাঁকে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার আবেদন করলেও পতিত সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী, অবৈধ আইনমন্ত্রীসহ অন্যান্যরা হাস্যরস করে আবেদন গ্রহন করেননি। এরপর তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেও গৃহবন্দি করে রাখা হয়। সে সময়েও তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। যার ফল হচ্ছে ২০২৫ সালের ৩০ডিসেম্বর। তিনি ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশ ও বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তাঁর এই মৃত্যুর জন্য পতিত সরকারের খুনি হাসিনা দায়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন বলেন, বেগম জিয়া ক্ষমতায় আসার পরে দেশের সংস্কার কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা রোধ করে পার্লামেন্ট সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। সে সময় থেকেই তিনি নারী শিক্ষা ও নারীদের স্বাবলম্বী করতে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। নারীদের ক্ষমতায়িত করতে তিনি অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছিরেন। শুধু তাইনয় তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ে অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ গড়ার জন্য সব কিছু করে গেছেন।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কারিগরী ও বাস্তবমুখী শিক্ষা চালু এবং চতুর্থ শ্রেণি হতে সকল শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। আর জানাযায় কত লোক হয়েছিলো তা কেউ এখন পর্যন্ত পরিমাপ করে বলতে পারেনি। আর ভবিষ্যতের পারবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি। শেষে দোয়া ও মোনাজাত কার হয়।
হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব বাদশা মিয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য শাহাজান আলী, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলী হোসেন, সদস্য সচিব জেলা বিএনপির সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য রুকুনুজ্জামান আলম, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুল হালিম, রাবি ফিসারিজ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেন, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও এডভোকেট আবু মোহাম্মদ তারেক।
আরো উপস্থিত ছিলেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামসুল আলম, কাটাখালী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব নাজমুল হক, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবু, সাদু মেম্বর, মুকুল আলী ও মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, জেলা জিসাস এর সভাপতি ফিরোজ কবীর রেন্টু, সাবেক সভাপতি রজব আলী ও সাবেক মেম্বর আক্কাস আলী ও হরিয়ান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মতিন কাসেমীসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সখল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ। দোয়া শেষে তবারক বিতরণ করা হয়।


প্রকাশিত: January 10, 2026 | সময়: 1:18 am | সুমন শেখ