বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রির্পোটার: রাজশাহীতে কয়েকদিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে সকাল থেকেই শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা কাজে বের হতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। অনেক এলাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্করা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আদ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এছাড়াও গত শুক্রবারের তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৌসুমের সর্বনিম্ন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর দিক থেকে আসা শীতল হাওয়া ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের শতভাগ আদ্রতা মিলিয়ে শীতের অনুভূতি কয়েকগুণ বেড়েছে। শীতের প্রকোপ থাকবে আরো কয়েকদিন। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন,“উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়ছেই। সকালের ঠান্ডা বাতাস শীতের উপস্থিতি আরো বাড়াচ্ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বেশি থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এইরকম নিম্ন তাপমাত্রা আরো কয়েকদিন বিস্তৃত থাকতে পারে।”
এদিকে শীতের প্রকোপ বেশি থাকায় সবচেয়ে বেশি ভূক্তভোগী হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতের তীব্রতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসতে দেখা গেছে।
এদিকে প্রচন্ড শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার খোঁজে ভোরের কুয়াশা উপক্ষো করে বের হয়েছে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ, শ্রমজীবি, রিকশা চালক ও ভাসমান জনগোষ্ঠী। নগরীর উপশহর এলাকার রিকশা চালক আব্দুল মতিন বলেন,“ভোর থেকেই তীব্র কুয়াশা থাকায় রাস্তায় মানুষের চলাচল খুবই কম। সারাদিনে যে পরিমাণ ভাড়া হয় তা দিয়ে ভাড়ার টাকাই উঠছে না। এ অবস্থায় আমরা খুবই কষ্টে আছি।”
রেলগেট এলাকার রাজমিস্ত্রি সাইফুল আলী বলেন,“এই ঠান্ডায় কাজ করতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। বেলা ১২ টা বেজে যাচ্ছে তাও সূর্যের দেখা পাচ্ছি না। কয়েকদিনের বাড়তি শীতে আমাদের কাজের পরিমাণও কমে গেছে।”
এছাড়াও শীত নিবারণের জন্য ফুটপাত ও খোলা বাজারে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। নগরীর সাহেবাজার, নিউমার্কেট, কোর্টস্টেশন সহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল ও কম্বলের দোকানে বাড়তি ভিড় দেখা গেছে। হেলাল আলী নামের এক বিক্রেতা জানান, কম দামে ভালো পণ্য পাওয়া এগুলো অস্থায়ী কাপড়ের দোকানের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় সব ধরণের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে এগুলো অস্থায়ী দোকানে।
সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে সুয়েটার কিনতে এসেছেন রকিবুল হাসান নামের এক কলেজ ছাত্র। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“মার্কেটের পাশাপাশি এগুলো দোকানেও ভালো ভালো জ্যাকেট-সুয়েটার পাওয়া যায়। একই পণ্য এখানে আপনি পাবেন ৬০০ টাকায়, আর যদি মার্কেটে যান তাহলে নিবে ১৫০০ টাকা। টাকা বাঁচাতে এবং ভালো পণ্য খুঁজতেই এখানে আসা”।
তবে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোথাও রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রয়াস দেখা গেছে। সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে শীতার্তদের সহায়তার উদ্যোগ জোরদারের দাবি উঠেছে। তবে এখনো নগরীতে সেইরকমভাবে বিনামূল্যে শীববস্ত্র বিতরণ করতে দেখা যায়নি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাজশাহী অঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং রাত ও ভোরের দিকে কুয়াশা অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থায় সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।