সর্বশেষ সংবাদ :

২৬ বিঘার এগ্রোফার্ম ও নার্সারি থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ : মাল্টা ও কমলা চাষে স্বপ্ন পুরণ হানিফের

মিজানুর রহমান, চারঘাট: স্বপ্ন ছিলো লেখা পড়া শেষ করে একজন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা হবার। সেই স্বপ্ন আজ পুরণ হয়েছে। সোনার হরিন চাকরীর পেছনে না ছুটে রাজশাহীর চারঘাটে মাল্টা ও কমলা চাষ করে হানিফ মন্ডল এখন প্রতিষ্ঠিত সফল উদ্যোক্তা। মাত্র ৩ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করলেও এখন তিনি ২৬ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন মাল্টা ও কমলা সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল ফলাদির বাগান।
চায়না কমলা, আম, পেয়ারা সহ বিভিন্ন ফলের চাষ হচ্ছে চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের ফতেপুর গামের আমেদুল মন্ডলের ছেলে হানিফ মন্ডলের মাল্টা বাগানে। তিনি গড়ে প্রতি বছর মাল্টা ও কমলা বিক্রি করে আয় করছে ১০ লাখ টাকা। এছাড়াও অন্য ফল বিক্রি করে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৩/৪ লাখ টাকা। তিনি এলাকায় এখন সফল মাল্টা ও কমলা ফল চাষি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
চারঘাট উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত মাল্টা ও কমলার গাছ লাগানোর পর বয়স দুই বছর হলে শতভাগ মাল্টা ও কমলা সংগ্রহ করা যায়। তাই মাল্টা ও কমলা চাষে প্রথম বছর একটু খরচ করতে হয়। তারপর আর কোনো খরচ হয় না। তখন শুধু জমি থেকে ফসল সংগ্রহ করা হয়। তবে মাল্টা ও কমলা গাছের পরিচর্যার দিকে সব সময় খেয়াল রাখতে হয়। গাছ যেন রোগাক্রান্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। তাছাড়া গাছের বাকল ছেঁটে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখতে হয়।
হানিফ মন্ডল জানান একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স শেষ করে চাকুরীর পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে গড়ে তুলেন হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারি। এ নামকরণে ২০১৯ সালে উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের ফতেপুরে স্বল্প পরিসরে শুরু করেন মাল্টা ও কমলার চাষ। পর্যায়ক্রমে বেড়ে প্রায় ১২ বিঘা জমিতে মাল্টা ও কমলার চাষ করছেন। শুরুতে সাথি ফসল হিসেবে পেয়ার চাষ করেও সাফল্য পেয়েছেন। এখন ২৬ বিঘা জমিতে মাল্টা ও কমলার পাশাপাশি আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ চাষ করছেন। মাটি ও আবহাওয়া অনুকুল থাকায় কয়েক বছরের মধ্যে গাছগুলো ভালো বেড়ে উঠে। ৫ম বছর থেকে ফলন শুরু হয়।
তবে ষষ্ঠ বছরে খুব ভালো ফলন হয়, তবে এই বছরে তার বাগানে এসেছে বাম্পার ফলন। এখন বাগানের প্রতিটা গাছ থেকে গড়ে ৮০-১০০ কেজি মাল্টা ও কমলা পাচ্ছি বলে জানান হানিফ। বাগানে রয়েছে বারি-১, ইয়োলো মাল্টা, ভিয়েতনামী মাল্টা, মরোক্কো মাল্টা, চাইনিজ কমলা, দার্জিলিং কমলা ও ভেরিকেট মাল্টা। তবে পরিক্ষামূলকভাবে নতুন জাতের কাশ্মীরি কেনু, জাপানী সিডলেস মাল্টা ও পাওকেনু-১ জাতের মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে।
অন্যান্য ফসলের তুলনায় মাল্টা ও কমলার উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এতে লাভ বেশি। হানিফের এই সাফল্য এখন এলাকায় আলোচনার বিষয়বস্তু। প্রতিবেশী এলাকা, নিজ জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলার অনেকেই তার বাগান ঘুরে দেখে উৎসাহ পাচ্ছেন। সফল উদ্যোক্তা হওয়ায় সরকারের সর্বোস্তরের কর্মকর্তা, তরুণ উদ্যোক্তা সহ সাধারণ মানুষের ভিড় লেগেই থাকছে হানিফের মাল্টা বাগানে। পাশাপাশি মাল্টা ও কমলার চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগান থেকে মাল্টাও কমলা কিনে নিয়ে যান স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীরাও। মাল্টা ও কমলা প্রতি কেজি ২শ টাকা দরে বিক্রয় করেন তিনি। এতে তার বাগান থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকার মতো আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, মাল্টা ও কমলা ‘ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ একটি ফল। এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। হানিফ মন্ডলের মতো চারঘাটে এখন অনেক তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও এখানকার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা ও কমলা চাষের জন্য উপযোগী। আমরা প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সার দিয়ে তাদের সহযোগীতা করছি। ভবিষ্যতে মাল্টা ও কমলা চাষে আরও সাফল্য আসবে বলে আশা করছি বলেন তিনি।


প্রকাশিত: December 3, 2025 | সময়: 1:41 am | সুমন শেখ