, , ।
ইবতিদা ফেরদৌস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন “জনগণ ও আল্লাহ যদি চান আমি এমপি হই তাহলে আমার সম্পদ বাড়বে না বরং সম্পদ কমে যাবে। এর আগে জামায়েত থেকে যারা নির্বাচিত হয়ে গুরু দায়িত্বে আসছে তাদের সম্পদ বাড়ে না, তাদের কমে যায়।”
ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ইসলাম যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, তাই এটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন সহ সকল ক্ষেত্রেই একটি সুনির্দিষ্ট দর্শন প্রদান করে। “আমরা সমাজের সর্বস্তরে আল্লাহর যে বিধান, হুকুম, এটা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে, এই ধারণাটি একটি ভুল ধারণা। বরং, তিনি মনে করেন ইসলামই একমাত্র গ্যারান্টি দিয়েছে ধর্ম, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে নারী-পুরুষ সকলের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার।
এমপি নির্বাচিত হলে রাজশাহীর উন্নয়নে তার প্রধান ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, তার প্রধান লক্ষ্য হবে বেকারত্ব দূর করা। শিক্ষিত তরুণদের জন্য কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি ব্যাপক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
রাজশাহী ‘শিক্ষানগরী’ বা ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে শিল্পের বিকাশ ঘটেনি। তাই শিল্প এবং ব্যবসার বিকাশ ঘটাতে চান তিনি। রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো রাজশাহীতে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা করা। তার মতে, এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান হবে।
চাকরির বাজার সীমিত হওয়ায় শিক্ষিত বেকারদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চান ডা. জাহাঙ্গীর। সিল্ক সিটি ও হাই টেক পার্ক কে কাজে লাগিয়ে আইটি বেসড কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। রাজশাহীকে স্মার্ট ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’র পাশাপাশি পরিবেশের জন্য একটি ভালো এনভায়রনমেন্ট তৈরি করা দরকার।
রাস্তাঘাট, রেললাইনের ধার, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতিত জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে ক্লিন সিটিকে গ্রীন সিটিতে রূপান্তরের প্রথম ধাপ। এছাড়াও হাইরাইজ বিল্ডিংগুলোতে ছাদবাগান করাকে উৎসাহিত করতে চান তিনি।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে কমপক্ষে ৩ হাজার বেডের উন্নত হাসপাতালে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, মানবিক গুণসম্পন্ন এবং দক্ষ প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে তারা বেসরকারিভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের ভালো মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার প্রস্তাব করেছেন।
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজনীতিতে আসার প্রেরণা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি তার উপর আসা একটি দায়িত্ব যা তিনি অর্থনৈতিক লোকসান স্বীকার করেও পালন করছেন।
তিনি বলেন, “আল্লাহর পক্ষ থেকে দায়িত্ব আসছে। দায়িত্ব পালনের জন্য কিন্তু আমরা এই কাজটা করছি অর্থনৈতিক লসের স্বীকার করে।”
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করাকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, বহু ত্যাগ-রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারকে তাড়িয়েও, গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোকে ‘লাইলাতুল ইলেকশন’ বা ‘পুতুল খেলার নির্বাচন’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি নির্বাচন ব্যবস্থার পাশাপাশি বিচার বিভাগ, পুলিশ বাহিনী এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসের অভিযোগও করেন।
ডা. জাহাঙ্গীর আশা প্রকাশ করেন, রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আসনে ঘোষিত বড় দলের প্রার্থীর সাথে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং অতীতে তারা তাকে নির্বাচনে সহায়তাও করেছেন। তিনি জনগণের সাড়া পাচ্ছেন এবং জনগণ ও আল্লাহ চাইলে এমপি হলে তার ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়বে না, বরং কমে যাবে বলে জোর দিয়ে জানান তিনি।