বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইমাম হোসেন, ডিজিটাল :
রাজশাহীর পুঠিয়ায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখান হতে অসুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন তিনি, তবে ঢাকার কোথায় হতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসেব মতে, শুধু ২০২৫ সালেই চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন ৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। অনেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন, আবার যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদেরকে পাঠানো হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অপরদিকে ডেঙ্গু থেকে প্রতিরোধে পুঠিয়া পৌরসভা এলাকায় মাঝে মধ্যে স্প্রে ছিটানো হলেও, উপজেলার অন্য কোথাও আর এই কাজটি চোখে পড়েনি।
এদিকে ডেঙ্গু কোথায় থেকে এলো তা জানার জন্য উপজেলার কয়েকটি স্থানে ঘুরে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত নারী রোগীর দেখা মিলেছে। আক্রান্ত ওই নারী গত প্রায় দু’বছর ধরে অন্য কোথাও যাননি বলে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এছাড়াও পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের আরেকজন নারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনিও গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে উপজেলার বাহিরে কোথাও যায়নি। অন্য দিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও রোগীর স্বজনরা ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি গোপন রাখতে চাইছেন। তারা মনে করছেন রোগটির পরিচয় দেওয়া লজ্জার বিষয়। সেই কারনে তারা বিষয়টি গোপন রাখতে চান।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সূচনা মনোহরা বলেন, আমরা বর্তমানে অনেক সচেতন। আমাদের পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট আছে। আগে পরীক্ষা করতে কিছু টাকা নেওয়া হতো এখন সম্পূর্ণ ফ্রিতে পরিক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে পার্শ্ববর্তী উপজেলার লোকজনও চিকিৎসা নিতে আসেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, সকল ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যানদের ডেকে এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন, ডাঃ এস, আই, এম রাজিউল করিম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সচেতনামূলক কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আসলে ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে মানুষকে সচেতন হতে হবে।
সানশাইন /শাহজাদা