, , ।
মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধ পরিত্যক্ত জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে পানিফল চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক এই চাষে ঝুঁকেছেন। নীচু জমিতে সারা বছর পানি জমে জলাবদ্ধতা থাকায় যেসব জমিতে অন্য কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না সেইসব জমিতে এখন ব্যাপক ভাবে চাষ হচ্ছে পানিফল। ফলে একদিকে জলাবদ্ধ পরিত্যক্ত জমি কাজে লাগা সহ পানিফলে অধিক লাভের কারণে কৃষকের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার পুরানাপৈল ও গতনশহর সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে নিচু জমিতে সারা বছরই পানি জমে থাকে। এই জমিতে আগে তেমন কোনো ফসল চাষ হতো না। শতাধিক কৃষক নিজের মেধা ও উদ্যোগে এইসব জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে পানিফল চাষ করছেন। খরচ কম, কোন রোগবালাই নেই এবং লাভ বেশি হওয়ায় পানিফল চাষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
পানিফল চাষী বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, পানিফল চাষে বিঘা প্রতি মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ পড়ে আর বিক্রি হয় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পানিফল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত। বিঘা প্রতি ৪৫ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়। কৃষকরা জমি থেকে সংগ্রহ করে সড়কের পাশেই বিক্রি করা সহ পাইকারি বাজারেও বিক্রয় করে বলে জানান। তবে সরকারি ভাবে সহায়তা পেলে চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করছেন।
সদর উপজেলার গতনশহর এলাকার কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘পানিফল চাষে লাভের তুলনায় খরচ অনেক কম। এক বিঘা জমিতে শ্রমিক দিয়ে সব কাজ করালে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। নিজে করলে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আরও কম খরচ হয়। বর্তমান বাজারে পানিফল ১ হাজার ৫ শত টাকা থেকে ১ হাজার ৭ শত টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিলেও প্রতি বিঘায় ৪০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকে।’
হানাইল এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আজাদ বলেন, ‘আমাদের এলাকার জমি অনেক নীচু। সারা বছর পানি জমে থাকে। তাই আমি গত চার বছর ধরে পানিফল চাষ করছি। এবার এক একর জমিতে চাষ করেছি। ধান ও আলুর চেয়ে পানিফল অনেক বেশি লাভজনক।’
হাইলট্টি এলাকার কৃষক আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পানি জমে থাকে। তাই আমরা পানিফলের চাষ করেছি। এতে অনেক লাভবান হচ্ছি। মান অনুযায়ী ৫৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সড়কের পাশে জমি হওয়ায় সরাসরি সড়কেই বিক্রি করি। অনেক মানুষ কিনে নিয়ে যাচ্ছে।’
পাঁচবিবি আটাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পারিবারিক কাজে জয়পুরহাট শহরে এসেছিলাম। টাটকা পানিফল বিক্রি হচ্ছে দেখে রাস্তার পাশে দুই কেজি ১১০ টাকায় কিনলাম।’ সদরের ভাদসা গ্রামের জাকের আলী বলেন, ‘এখানকার পানি ফল খুব সুস্বাদু। যখন এদিক দিয়ে যাই, বাড়ির জন্য কেনার চেষ্টা করি। আজ এক কেজি কিনেছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘পানিফল চাষে খরচ অনেক কম। বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি খুব ভালো। এতে খনিজ পদার্থ আছে, যা শরীর গঠনের জন্য অনেক উপকারী। এবার জেলায় প্রায় ৩৫ হেক্টর জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে।
কৃষকরা যাতে আরও বেশি জমিতে লাভজনক ভাবে চাষ করতে পারে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া পানিফল চাষে কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।