, , ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ২৪ নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরনের ঘোষণা আসে। বাধ্য হয়ে রংপুরের বাড়ি থেকে ফার্মেসী বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রিপন বন্ধ প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে এসে উঠে। তার মতো আরও ৩৫ জন শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানে আসে। দিনে ভালো থাকলেও রাতে নেমে আসে ঘন কালো অন্ধকার। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে আবার কখনো মোবাইলে লাইট জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছেন তারা।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন জয়পুরহাট জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)। প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ব্যয়ভার পরিচালনা করার জন্য অর্থনৈতিক কোড পায়নি। এরই মধ্যে গত এক বছর ধরে পৌনে ১৭ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত ২৩ নভেম্বর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এরপর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার রাতে আইএইচটিতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে নিরব ঘন অন্ধকার। ভুতুরে পরিবেশে ছাত্র হোস্টেলের ভবনে মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে অস্পষ্ট আলোর আভাস আসছে। বারান্দায় ছাত্ররা নিজেরাই পরচুলায় খরকুটো দিয়ে রান্না করছে। আবার কেউ নিজের কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছে। মনে হচ্ছে আধুনিকতার ছোঁয়া না পেয়ে ঊনবিংশ শতাব্দিতে ফিরে গেছে তারা। এমন দূর্দশা ও দুর্ভোগ নিয়ে কিছুটা বাধ্য হয়ে হোস্টেলে থেকে পড়া শোনা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে দুটি টেকনোলজিতে (ল্যাব ও ফার্মেসি) ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী হোস্টেল থাকেন। অর্থনৈতিক কোড না পাওয়াই স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে আনুসাঙ্গিক ব্যয়ভারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত এক বছর থেকে সেই বরাদ্দও বন্ধ রয়েছে। এ কারণে গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ আইএইচটি কর্তৃপক্ষকে বার-বার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য চিঠির মাধ্যমে তাগাদা দেয়। বরাদ্দ না থাকায় কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেনি। এ কারণে গত ২৩ নভেম্বর সকালে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লোকজন গিয়ে আইএইচটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এরপর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হঠাৎ করে কেন্দ্রীয়ভাবে চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরনের জন্য ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়ি থেকে ফরম পূরন করা এবং পড়াশোনা করা সম্ভব হবে না। তাই তারা বাধ্য হয়ে আবার বন্ধ প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে উঠেছেন। এতে তারা পানি ও খাবার সংকটের পাশাপাশি নিরাপ্তহীনতায় ভূগছেন।
ফার্মেসী বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর সকল শিক্ষার্থীরা হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যায়। আমিও বাড়িতে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে ফানইনাল পরীক্ষার ফরম পূরনের ঘোষণা দেওয়াই বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে এসে আবারও হোস্টেলে উঠেছি। রাতের বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ছি। আবার কখনো মোবাইল ফোনের আলোতে পড়ছি। এতে আমাদের অনেক কষ্টের পাশাপাশি ভোগান্তি হচ্ছে।
ল্যাবরেটরী বিভাগের শিক্ষার্থী নুর আমিন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আলো এবং পানির ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট সমাধানে নতুন করে পানির পাম্প বসিয়ে দুই ঘন্টা জেনারেটর চালিয়ে শুধু পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্ধকারে রান্না, খাওয়া আর মোমবাতি জ্বালিয়ে কোনমতে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
ওই প্রতিষ্ঠানের নৈশ প্রহরী স্বাধীন বলেন, গত ২০ দিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ নাই। রাতের বেলায় বহিরাগত ও চোরেরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এরই মধ্যে ছাত্ররা হোস্টেলে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবার পর শিক্ষার্থীদের ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই মুহুর্তে শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। হোস্টেলে অবস্থানের জন্য তাদের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তারা নিজে থেকেই অযথা হোস্টেলে থাকছেন। কোন অঘটন ঘটলে এর দায় প্রতিষ্ঠান নিবেনা। আর বিদ্যুতের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ হয়েছে খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে।