সর্বশেষ সংবাদ :

প্রধান শিক্ষকের যোগদানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৫

বদলগাছী প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীর বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে দুই বছর আগে বরখাস্ত হয়েছিলেন।
বুধবার ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই স্কুলে যোগদান করতে গেলে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা বাধা প্রদান করায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে যোগদান করতে আসা ওই প্রধান শিক্ষক পালিয়ে যান। তবে সংঘর্ষের এই ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ ৫ জন আহত হয়।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালে ৫ জুলাই ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ ও সহকারী শিক্ষিকার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ওই প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দেয়া সহ বিভিন্ন আন্দোলন করা হয়। পরবর্তীতে ওই প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয় এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়।
প্রায় দুই বছর পর শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ তার গ্রামের কিছু লোকজন নিয়ে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুইপক্ষ সংঘর্ষ হয়। এতে শিক্ষার্থীসহ দুইপক্ষের ৫ জন আহত হয়। এসময় শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত ছোট যমুনা নদী সাঁতরে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এবিষয়ে বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। তিনি ভূয়া কিছু কাগজপত্র নিয়ে তার গ্রামের কিছু লোকজন সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধা প্রদান করলে হামলা করা হয়। এতে ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।
বিষয়টি জানতে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এতে মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম বলেন, এ বিষয়ে কোন চিঠি এসেছে কীনা আমি অবগত নই। ছুটিতে ঢাকায় অবস্থান করছি বলে জানান তিনি।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ আনিছুর রহমান বলেন, শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ স্কুলে যোগদান করতে যাওয়ার আগে অবগত করেছিল। পরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে কোন অভিযোগ থানায় আসেনি।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ উত্তোমাধ্যম দেয়া হয়েছিল। নারী কেলেঙ্কারি ও বেশ কিছু অনিয়মের কারণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে ২০১৪ সালে তাকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছিল। এক বছর স্কুলের বাহিরে থাকার পর তার কিছু মদদপৃষ্টদের সহযোগিতায় আবারও স্কুলে প্রবেশ করে।
গত ২০১৭ সালে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ এর বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে। পরে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে বিষয়টি ধাপাচাপা দেয়া হয়। প্রভাবশালী হওয়ায় ধরাকে সরা করে চলতেন তিনি।


প্রকাশিত: November 6, 2025 | সময়: 4:13 am | সুমন শেখ