সর্বশেষ সংবাদ :

হিজাব নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট রাবি অধ্যাপকের,মধ্যরাতে উত্তাল ক্যাম্পাস

রাবি প্রতিনিধি,ডিজিটাল :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (রাকসু) নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের শপথ অনুষ্ঠানেের হিজাব পড়া ছবি নিয়ে এক শিক্ষকের পোস্টকে ঘিরে উত্তাল হয়েছে ক্যাম্পাস। এ পোস্ট পর্দার অবমাননা অ্যাখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অবিলম্বে তাকে বহিষ্কারের দাবিও জানান তারা। সোমবার দিবাগত রাত ১২টায় এ প্রতিবাদী বিক্ষোভ হয়।

হিজাব নিয়ে মন্তব্য করা শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক।

হল সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ অনুষ্ঠানে বোরখা পড়া ছবি নিয়ে পোস্ট করেন। কিছুক্ষণ পর ডিলিটও করেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পোস্টের স্ক্রিনশট বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয়। রাতেই পর্দা অবমাননার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

ডিলিট করা পোস্টের স্ক্রিনশটে লেখা ছিল, ‘এই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আমি এন্ডর্স করছি। কাল আমি এরকম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা পরে ও হাতে নিয়ে ক্লাসে যাবো। পরবো টু-কোয়াটার, আর হাতে থাকবে মদের বোতল। মদ তো ড্রাগ না! মদ পান করার লাইসেন্সও আমার আছে! শিবির আইসেন, সাংবাদিকরাও আইসেন!’ পোস্টে রাকসু হল সংসদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের দুটি ছবি যুক্ত করেন তিনি।

এদিকে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাকসুর মহিলা সম্পাদক সায়েদা হাফসা বলেন, হিজাব পড়েও নারীরা যখন অপ্রতিরোধ্য, তখন একটা পক্ষ তাদের বাধা দিয়ে, কটুক্তি করে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের ছবি যুক্ত করে বলেছেন টু কোয়াটার ও মদের বোতল নিয়ে ক্লাসে আসতে চান। টু কোয়াটার আর মদের বোতল কী সামাজ মূল্যায়ন করে? একইভাবে বোরখাকে নিয়ে কি সামাজিকভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়? তিনি যা করতে চেয়েছেন, এখন তা করে দেখাক। এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাকে বহিষ্কার করতে হবে।

রাকসু’র জিএস সালাউদ্দিন আম্মার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যদি তার মেরুদণ্ড সোজা থাকেন অবশ্যই অবশ্যই তিনি বিভাগে মদের বোতল ও হাফ পেন্ট পড়ে আসবেন, আদারওয়াইজ (অন্যথায়) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে শোকজ করবে। আমরা কাল বিভাগের সামনে অবস্থান নেবো। তিনি তিন সেকেন্ড ধরে পোস্ট রেখেছিলো না তিন মিনিট রেখেছিলো তা আমাদের বোঝার বিষয় নয়।

এখানে (ছবিতে) কোন রাজনৈতিক দলের বোনেরা ছিলোনা, এখানে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বোনেরা ছিলো। তাই শিক্ষার্থীদের অস্তিত্বে আঘাত লেগেছে, হিজাবের অস্তিত্বে আঘাত লেগেছে, মুসলমানের অস্তিত্বে আঘাত লেগেছে।

সানশাইন/শামি


প্রকাশিত: October 28, 2025 | সময়: 1:21 am | Daily Sunshine

আরও খবর