, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণ দাঁড়িপাল্লায় নীরবে ভোট দিয়ে নীরব বিপ্লব ঘটাবে ইনশাল্লাহ। বিগত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয় সেটা প্রমাণ করেছে। আগামী সংসদ নির্বাচন হতে হবে পিআর পদ্ধতিতে। আমরা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছি। আমরা ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন চাই। তবে তার আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচদফা দাবিতে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ও নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম। উপজেলা সেক্রেটারী আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর ড. মীর নুরুল ইসলাম, নায়েবে আমীর অধ্যাপক ইউনুস আলী ও অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসাইন খান, জেলা সেক্রেটারী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান, নাটোর-১ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও নাটোর-৩ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান, জেলা জামায়েোতর সহকারী সেক্রেটারী আতিকুল ইসলাম রাসেল, গুরুদাসপুর উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল আলিম, জেলা শুরা সদস্য আব্দুল খালেক, জেলা মসজিদ মিশন একাডেমীর সভাপতি মাওলানা আবুল হোসাইন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা হাসানুল বান্না উজ্জল ও জিয়াউর রহমান জুয়েল এবং বনপাড়া শহর জামায়াতের আমীর মীর মহিউদ্দিন বক্তব্য রাখেন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের মানুষ বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ড. ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। তারা ফ্যাসিবাদীদের বিচারের কথা বলে ক্ষমতায় বসেছিলেন। কিন্তু তার চারপাশে ফ্যাসিবাদের দোসর ও ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সরকারকে বিভ্রান্ত করছে এবং একটি দলের পকেটে ঢুকিয়ে দিতে চক্রান্ত করছে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের জরিপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়, দেশের মানুষ পিআর পদ্ধতি নির্বাচন চায় কি না তা গণভোট দিয়ে জনগণের রায় নিন।’
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, এটি বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের দাবি। কালো টাকা, সন্ত্রাস, ব্যালট বাক্স ছিনতাই প্রতিরোধ ও সবার ভোটের মূল্যায়নের জন্য পিআর পদ্ধতির বিকল্প নেই। আপনারা লক্ষ্য করেছেন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকরা নিয়মিত জামায়াতের আমীরের সাথে সাক্ষাৎ করছেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমরা রাজা হবো না, আমরা দেশের নাগরিকদের সেবক হয়ে একটি উন্নত সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তুলবো। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে পারলে বিশ্বের মধ্যে দেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তখন আর এদেশ থেকে বিশ্বের কোথাও গিয়ে ভিক্ষা করতে হবে না।
তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে অমুসলিমরা সবচেয়ে ভাল থাকবে। একজন মুসলিম ধর্মীয় ক্ষেত্রে সহ সব জায়গায় যতটুকু অধিকার পাবে, অমুসলিমরাও তাই পাবে। জামায়াত অমুসলিমদের সব ধরণের নিরাপত্তা বিধান করবে। বেকারত্ব দুর করা হবে, আঠারো কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে শক্তিতে রুপান্তর করা হবে। কর্ম সংস্থানের জন্য কল-কারখানা গড়ে তোলা হবে। মা-বোনদের জন্য আলাদা কর্ম সংস্থানের সব ব্যবস্থা রাখা হবে। তাদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।