, , ।
সানশাইন ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের সড়ক নিরাপত্তা প্রযুক্তি উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘শেল সেলামাত সামপাই ভার্সিটি চ্যালেঞ্জ ২০২৫’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম সফট শেল ক্র্যাব’।
এ দলের চার সদস্য হলেন- সামিন সারওয়াত, তানহিম বিন জসিম, হুজাইফা সাওমান ও তানভীর আহমাদ। তারা সবাই ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়ায় (ইউটিএম) পড়াশোনা করছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী লক সিউ ফুক।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কার হিসেবে দলটি পেয়েছে ১০ হাজার রিঙ্গিত (প্রায় তিন লাখ টাকা)। বিজয়ী দলটি তৈরি করেছে ‘কার বাডি’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত মোবাইল অ্যাপ। এ অ্যাপটি স্মার্টফোন বা গাড়ির ক্যামেরার মাধ্যমে চালকের চোখ ও মুখভঙ্গি বিশ্লেষণ করে মাইক্রো-স্লিপ শনাক্ত করতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তিজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এটি চালককে আগাম সতর্কবার্তা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি চালু হলে বছরে অন্তত ৫০০ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে এবং প্রায় ৪.১ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি সাশ্রয় করা যাবে। এবারের ‘শেল সেলামাত সামপাই ভার্সিটি চ্যালেঞ্জ ২০২৫’ প্রতিযোগিতার ফাইনালে অংশ নেয় পাঁচটি দল। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দলটির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল- ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহ (ইউএমএস), ইউসিআইএসআই কলেজ, ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (ইউপিএম) ও এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ)।
বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন শেল মালয়েশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা, মালয়েশিয়া সরকারের সড়ক পরিবহন বিভাগ, মালয়েশিয়ান ইনস্টিটিউট অব রোড সেফটি রিসার্চ (মাইরস), উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও প্যান্ডুলাজুর বিশেষজ্ঞরা। শেল মালয়েশিয়ার কান্ট্রি চেয়ার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (আপস্ট্রিম) সিতি সুলাইমান বলেন, “প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ অসচেতনতা ও বেপরোয়া আচরণের কারণে প্রতিরোধযোগ্য সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। সমাজের অংশ হিসেবে সবার দায়িত্ব নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। শেলে আমরা তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে চাই, যাতে তারা সৃজনশীল সমাধান বের করে এবং নিজেদের কমিউনিটিতে নিরাপত্তা প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে।”
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ‘টিম সফট শেল ক্র্যাব’ দলের সদস্যরা জানান, “এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ আমাদের চিন্তাভাবনার ধরণ বদলে দিয়েছে। উদ্ভাবনী টুল ও কৌশলগত সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতা আমাদের এমন সমাধান তৈরি করতে সক্ষম করেছে, যা সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বাস্তব ভূমিকা রাখতে পারে।”
মালয়েশিয়ায় শেলের সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। পরে তারা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তায় নতুন উদ্ভাবন ও কার্যকর সমাধান বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে আসছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ভার্সিটি চ্যালেঞ্জ’ চালু হয় ২০১৭ সালে, যার লক্ষ্য তরুণ শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর সমাধান খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করা।
প্রাসাদের প্রাচীন কিছু ঘর ঘুরে দেখানোর সময় প্রিন্স উইলিয়াম তার পারিবারিক ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন। “আমার মনে হয়, আপনি যদি সতর্ক না হন তাহলে ইতিহাস আপনার ওপর সত্যিকারের ভার হয়ে আসতে পারে, বাধা সৃষ্টি করতে পারে, আপনার দমবন্ধ লাগতে পারে, মনে হতে পারে আপনি অনেক বেশি বিধিনিষেধে আটকে আছেন।
“এ কারণেই বর্তমানে বাস করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি আমি,” বলেছেন তিনি। ৪৩ বছর বয়সী উইলিয়াম ঐতিহ্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিলেও বলেন, রাজতন্ত্রকে প্রাসঙ্গিক রাখার প্রশ্ন তুলতে মোটেও ভয় পান না তিনি। কথোপকথনের একাংশে প্রিন্সকে তার পারিবারিক কুকুর অর্লাকে নিয়ে হাঁটতে বের হতে দেখা যায়।
দুজনের আলোচনায় উঠে আসে পরিবার, বাচ্চাকাচ্চা, গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ ও অ্যাস্টন ভিলা ফুটবল ক্লাবের ভক্ত হওয়ার কথা। বারবার এসেছে বাবা চার্লস ও স্ত্রী কেট মিডলটনের ক্যান্সার মোকাবেলার প্রসঙ্গ। প্রিন্স অভিনেতাকে নিয়ে যান প্রাসাদের নিকটস্থ টু ব্রিউয়ারস পাবে। অনানুষ্ঠানিক এ পরিবেশে উইলিয়াম তার পরিবার, কী করে তার সন্তানরা মায়ের অসুস্থ থাকার সময়টা সামলেছিল সে বিষয়ে খোলামেলা আলাপ করেন।
সাক্ষাৎকারে ভাই প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে তার এখনকার সম্পর্কের প্রসঙ্গ আসেনি। তবে উইলিয়াম ভাইয়ের নাম একবার উল্লেখ করেছেন, যখন রাজপরিবারে বেড়ে ওঠা, বিশেষ করে তার বাবা-মা যখন ব্যাপক নজরদারির মধ্যে ছিলেন তা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়।
“অতীতের এমন কিছু চর্চা যার মধ্য দিয়ে হ্যারি ও আমি বেড়ে উঠেছি, তাতে আর ফিরতে হবে না বলেই আমি আশা রাখি। ওই ধরনের পরিস্থিতিতে যেন ফিরতে না হয় তা নিশ্চিতে আমি সম্ভব সবকিছুই করবো,” বলেছেন তিনি। পরে বিবিসির সঙ্গে কথোপকথনে লেভি বলেছেন, প্রিন্সকে এতটা খোলামেলা আলাপ করতে দেখে তিনি বেশ অবাকই হয়েছেন।
“আমার কাছে, এটা ছিল কেবল এক কথোপকথন। এটা থেকে কোনো ধরনের স্কুপ বা খবর বের করার কথা ভাবিইনি আমি। “তিনি আমাকে তার ভাবনা কী তা বলছিলেন, অনেক কিছু নিয়েই আমরা আড্ডা দিয়েছি। এটা আমার জন্য ছিল পুরোপুরি এক পরাবাস্তব দিন,” বলেন লেভি। সাক্ষাৎকারের শেষ বেলায় প্রিন্স বলেন, তিনি এমন এক পৃথিবী বানাতে চান যা তার ছেলেকে গর্বিত করবে।
“আপনি জানেন, জীবন আমাদের পরীক্ষাও নেয় এবং কখনো কখনো এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং, এবং সেটি উৎরে যাওয়ার মাধ্যমেই আমরা তৈরি হই। “আমি আমার স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে গর্বিত, যেভাবে তারা গত বছর সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। আমার সন্তানরাও দুর্দান্তভাবে সামলেছে,” বলেছেন তিনি।