, , ।
লালপুর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের জোতগৌরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দার বাইরে রাস্তা ও মাঠে প্রায় দেড় মাস ধরে জমে আছে বিলের পচা পানি। আর সেই হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়। এতে শিশুদের পায়ে খোস-পচড়া ঘা হতে শুরু করেছে। উপায়ন্ত না দেখে কর্তৃপক্ষ প্রাক-প্রাথমিকে পড়ুয়া শিশুদের ছুটি দিয়েছেন ২ সপ্তাহ আগে। আর অন্য শেণির অর্ধেক শিক্ষার্থী এমনিতেই বিদ্যালয়ে আসা ছেড়ে দিয়েছে বলে জানালেন প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বসন্তপুর বিলে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের করণে বিলের পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতি বছরই জোতগৌরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সহ আশে পাশের ঘরবাড়িতে পানি ওঠে। বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট অথবা প্রধান সড়ক সমান করে মাত্র ১শ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা গেলেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আর পানিতে নামা লাগবে না।
চতুর্থ শেণির বর্ষা ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম জানালো, পচা পানির মধ্য দিয়ে স্কুলে আসায় তাদের পায়ে খোস-পচড়া ঘা হয়েছে। প্রায় এক মাস হলেও ভালো হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিউলি খাতুন জানালেন, ৫ বছর ধরে তিনি এই বিদ্যালয়ে আছেন। প্রতি বছরই স্কুলের বারান্দার নিচে বিলের পচা পানি জমে। থাকে প্রায় ৩মাস। শিশুদের সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পানি সমস্যা দুর করার সাথে সাথে সীমানা প্রাচির নির্মাণও জরুরি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু মাসুম জানান, বিলের পচা পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসায় শিশুদের পায়ে চুলকানি ঘা হচ্ছে। অনেক অভিভাবক তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। ফলে দেড়’শ শিক্ষার্থীর মাত্র ৭০/৮০ জন প্রতিদিন স্কুলে উপস্থিত থাকছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের পরামর্শে প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের ১২ দিন আগে ছুটি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থদের পাড়া লেখা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নার্গিস সুলতানা বলেন, দুর্গা পূঁজার ছুটির পর ইটের রাবিশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে স্কুলে যাবার রাস্তা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে শিক্ষকদের। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। আগামি অর্থ বছরে এডিপির বরাদ্দ থেকে সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধানের আশ্বাস পাওয়া গেছে।