, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণায় ভরপুর এক পরিবেশে রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠিত হলো ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কলেজ মিলনায়তনে ইসলামিক কালচারাল ফোরাম (আইসিএফ)-এর উদ্যোগে এবং কলেজ প্রশাসনের সহযোগিতায় এ আয়োজন হয়। অতিথিদের আসন গ্রহণের পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পরিবেশিত হয় হৃদয় ছোঁয়া নাত। অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিএফ উপদেষ্টা ও আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রাকিব। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের মাঝে ইসলামী মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হলে এ ধরনের আধ্যাত্মিক আয়োজনের বিকল্প নেই। আলোচনায় মুখ্য বক্তা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, যুব সমাজের জীবনযাপন হতে হবে শৃঙ্খলাপূর্ণ। নিয়মিত নামাজ, কোরআনের শিক্ষা ও রাসুল (সা.)-এর জীবনদর্শন অনুসরণ ছাড়া সঠিক পথে থাকা সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে দেন নৈতিক অবক্ষয় আজকের প্রজন্মকে গ্রাস করছে। এর প্রতিষেধক হতে পারে শুধু শরীয়তনিষ্ঠ জীবনব্যবস্থা। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নৈতিক অবক্ষয়, ভোগবাদী সংস্কৃতি আর অসংযমের এই সময়ে এমন অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মনে জাগায় আত্মপরিচয়ের বোধ। আলোচনা সভায় উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনুভূতিই অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, এমন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার পর মনে হয়, জীবনটাকে আরও শৃঙ্খলিতভাবে গড়ার চেষ্টা করা দরকার। কেবল পড়াশোনা নয়, ভালো মানুষ হওয়ার দায়িত্বও আমাদের। অন্য এক শিক্ষার্থী যোগ করে বলেন, আজকের আলোচনায় শুনলাম যৌবনকালই চরিত্র গঠনের সময়। এটা আমাদের জন্য বিশাল শিক্ষা। আমরা চাই নিজেদের জীবন ইসলামের আলোয় সাজাতে।
রাজশাহী কলেজের এ আয়োজন প্রমাণ করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞান বিতরণের ক্ষেত্র নয়, বরং মূল্যবোধ চর্চা ও নৈতিকতার পাঠশালাও হতে পারে। প্রধান অতিথি হিসেবে এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু. যহুর আলী বলেন, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ইসলামের সত্যিকারের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আমরা যদি বিদ্বেষ, হিংসা ও অন্যায় থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারি এবং আজকের আলোচনার শিক্ষাগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তবে এ অনুষ্ঠানই হবে সফল। দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী। কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন এবং পুরস্কৃত হন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের মনে বয়ে যায় অনুপ্রেরণার জোয়ার।