, , ।
রাবি প্রতিনিধি, ডিজিটাল :
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। এরই মধ্যে পোষ্যকোটাকে কেন্দ্র করে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তি ক্ষেত্রে বাতিলকৃত পোষ্যকোটা ১০টি শর্তসাপেক্ষে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
এদিকে পোষ্যকোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। এদিন রাত সাড়ে ৭টায় এই কর্মসূচি পালন শুরু করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৯ টা) কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বার্তা পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশক্রমে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, এই ক্যাম্পাসে রাকসু বানচালকারী গোষ্ঠী খুবই তৎপর। তাঁরা রাকসু বানচালে তৎপর নাহলে, ৩৫ বছর ধরে রাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকতো না। এখন যখন দেখছে রাকসু নির্বাচন হয়েই যাচ্ছে, তখন তাঁরা মীমাংসিত একটা ইস্যুকে সামনে নিয়ে আনছে। আমাদের সাবধান থাকতে হবে, পোষ্যকোটা একবার নিপাত গিয়েছে, এটাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। আর রাকসু নির্বাচন ২৫ সেপ্টেম্বরেই হতে হবে।
রাবি শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, রাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সাথে যে-ধরনের নোংরামি করছে, আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এই পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। অবিলম্বে এই পোষ্যকোটা বাতিল করতে হবে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় (পোষ্যকোটা) ভর্তির শর্তসমূহ হলো-
১. কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ঔরসজাত/গর্ভজাত সন্তান এই সুবিধা পাবে। ২. ভর্তির প্রাথমিক আবেদনের জন্য বিজ্ঞাপিত যোগ্যতা এবং শর্ত এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ৩. মেধার ভিত্তিতে ভর্তির জন্য নির্ধারিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত আসনে ভর্তি হবে। ৪. ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধা অনুসরণ করা হবে। ৫. ভর্তির আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত শর্তাবলীসহ অবশ্যই ন্যূনতম পাস নম্বর থাকতে হবে।
৬. কোনো বিভাগে ২ জনের অধিক ভর্তির সুযোগ থাকবে না। ৭. কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারির সন্তানকে তার কর্মরত বিভাগে ভর্তি করানো যাবে না। ৮. এ সুবিধার আওতায় নিজেদের মধ্যে ‘অটো মাইগ্রেশন’ ছাড়া শিক্ষার্থীর বিভাগ পরিবর্তনের অন্য কোনো সুযোগ থাকবে না। ৯. ভর্তির ক্ষেত্রে এবং পরবর্তীতে কোনো অভিভাবকের অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার বিষয় প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে অঙ্গিকারনামায় উল্লেখ করতে হবে। ১০. এ সুবিধার আওতায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী কোনোভাবেই আবাসিক হলে সিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেনা।
নাজমুল হুদা/ শামি