, , ।
মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে ও পাড়া-মহল্লায় এখন মাদক ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী সহ উড়তি বয়সের যুবসমাজ চরমভাবে বিপদগামী হয়ে পড়ছে। এ কারণে সমাজে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে।
বাগমারায় মাদকের ভয়াবহতা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় মাদক নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক নিয়ে এসব মিটিং ও আলোচনা কেবল চাকুরী রক্ষার্থে করছেন মাদক নিয়ন্ত্রন দপ্তর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। এতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। এভাবে মাদক নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। অপরদিকে মাদকের বিস্তার বেড়েই চলে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জনৈক মাহাবুরের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের খাজুর, জিল্লুর মোড়, বোয়ালিয়া মোড়, রামপুরপাঁথার ও বটতলা বাজার সহ বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ও পাড়া মহল্লায় এখন তাড়ি, চুয়ানী, হেরোইন, ফেন্সিডিল ও গাজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদ্রক সামগ্রী সরবরাহ করে আসছে।
এছাড়া হাটগাঙ্গোপাড়া, দামনাশ, মচমইল, হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি এবং তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ পৌর সভার ব্র্যাক মোড়, গোডাউন মোড়, কলেজ মোড়, বাজারের আলু হাটা সহ অন্তত ১০-১২ টি স্পটে সম্প্রতি মাদক ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবানীগঞ্জে মাদক সম্্রাজ্ঞী হিসাবে পরিচিত এক মহিলা। তিনি প্রায় ডজন খানেক মাদক মামলায় দশবারের বেশি গ্রেপ্তার হয়ে আবার জামিনে এসে পূর্বের স্টাইলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে ভবানীগঞ্জ বাজার সহ আশেপাশের এলাকায় হাতের নাগালে সহজেই মাদক সামগ্রী পাওয়ায় বড়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী সহ উড়তি বয়সের যুবকরাও তা অবাধে সেবন করছে। ফলে যুবসমাজ চরমভাবে বিপদগামী হয়ে পড়ছে।
এছাড়া ভবানীগঞ্জ ও আশেপাশের এলাকায় হোমিও ফার্মেসির দোকানগুলোতে ব্যাপক হারে রেকটিফাই স্পিরিটের কেনা বেচা বৃদ্ধি পেয়েছে। কম পয়সায় জমজমাট নেশা হিসাবে এই স্পিরিট এখন ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত মাসের ২৪ আগষ্ট ভবানীগঞ্জের কলেজ মোড়ের প্রভাষক হোমিও ফার্মেসিতে মাদক বিরোধী অভিযান চালায় বাগমারা থানা পুলিশ। অভিযানে তিনশ বোতল রেকটিফাই স্পিরিট উদ্ধার করা হয়। এ সময় দোকানের সেলসম্যান সুলতানকে আটক করা হয়।
ওই ঘটনার কিছুদিন পর চলতি মাসের ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ভবানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মেইন গেট সংলগ্ন ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষক আস্তানুর রহমানের হোমিও দোকানে র্যাব অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বোতল এ্যালকাহোল উদ্ধার ও আস্তানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আস্তানুর ছিলেন ওই এ্যালকাহোলের হোলসেলার ও ডিলার। তারে মাধ্যমেই নঁওগা নাটোর সহ আশেপাশের জেলার এই এ্যালকাহোল সাপ্লাই হয়ে আসছিল।
গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় তাড়ি ও চুয়ানী ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সমাজে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে। এ কারণে তিনি তার ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে গ্রামপুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সচেতনামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন ভবানীগঞ্জ বাজার ও আশেপাশের এলাকায় মাদকের মাদকের ওপেন সিক্রেট ব্যবসা মারাত্বক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভবানীগঞ্জ বাজারে দিনে দুপুরে মোহটরসাইকেল ও ভ্যানগাড়ি চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে বাজারের লোকজন এক ছিনতাইকারি ও এক ভ্যান চোরকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার সময়ে পৌরসভায় মাদকের এত ভয়াবহ অবস্থা ছিল না। এখন বাইরে থেকে লোক এখানে এসে মাদক সেবন করে যাচ্ছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক কারবার বন্ধের জন্য বর্তমানে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রনে তিনি এলাকাবাসীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম জানান, মাদক নিয়ে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। সংবাদ সংবাদ পাওয়া মাত্রই অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশকেও কঠোর অবস্থানে রাখা হয়েছে।