, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতার অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে প্রধান শিক্ষক বলছেন, ওই শিক্ষকের পরিবর্তে খন্ডকালিন একজন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। তিনিই ওই শিক্ষকের পরিবর্তে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন এবং বেতন-ভাতার টাকাও দিচ্ছেন। তবে জেলা শিক্ষা অফিসার বলছেন ভিন্ন কথা, তাঁর মতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককের পরিবর্তে খণ্ডকালিন শিক্ষক নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
জানা যায়, মোলামগাড়ীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভপাতি। সেই সুবাদে তিনি জেলা পরিষদের সদস্যও ছিলেন। এরপর গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার একাধিক মামলা দায়ের হয়। তখন থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
তারপরও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেনের সাথে সু-স¤পর্ক বজায় রেখে তিনি পালিয়ে থেকেও গত একবছর ধরে নিয়মিত বেতন-ভাতার অর্থ তুলছেন। গত একবছরে উৎসব ভাতা সহ প্রায় চার লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষরও নেই এক বছর যাবত।
ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককের অভিযোগ, তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবার জেলা পরিষদের সদস্য পদে থাকার কারণে আগে থেকেই বিদ্যালয়ে তেমন একটা আসতেন না। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের বদান্যতায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তখন কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পেতেন না।
শিক্ষকরা আরও জানান, রফিকুলের পরিবর্তে যাকে খণ্ডকালিন শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়েছে সে একই বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ল্যাব এ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত। সে মাত্র এসএসসি পাস। কি করে এটা সম্ভব?
ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, রফিকুল ইসলাম নামে যে একজন শিক্ষক আছেন, তারা শুধু তার নামই শুনেছেন কিন্তু কখনও দেখেননি। তিনি কাল না ফর্সা, লম্বা না খাটো তাও বলতে পারে না। তবে নেতা রফিকুল মাস্টার বললে সবাই চিনেন।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, তিনি গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন তা সঠিক। তবে নিয়মিত বেতন-ভাতার টাকা উত্তোলন করছেন তা আমার জানা নেই। আসলে তার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযাগও করেননি। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খণ্ডকালিন শিক্ষক নিয়ে তিনি বলেন, কোনো সুযোগ নেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম গত বছরের ৫ আগস্টের পর যেমন বিদ্যালয়ে আসেননি, তেমনি নিয়মিত বেতন-ভাতার অর্থ উত্তোলন করেছেন তাও সঠিক। তিনি মামলার আসামী হয়ে পলাতক থাকায় তার পরিবর্তে আরেকজনকে খন্ডকালিন হিসেবে রেখেছেন। বেতনও দেন তিনি। এ ব্যাপারে কমিটির সিদ্ধান্তও রয়েছে। তবে এখন থেকে তিনি আর বেতন-ভাতার অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আক্তার জাহান বলেন, বিষয়টি আমি জানি। কমিটির সিদ্ধান্তে খন্ডকালিন একজন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা যায় কিনা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগতও করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।