বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর ২নং ওয়ার্ড মোল্লাপাড়া আদিবাসী পাহাড়িয়া পাড়ার মানুষজন এখন উচ্ছেদের মুখে। দীর্ঘ ৫৩ বছর বসবাসের পর আগামী রোববার ৭ সেপ্টেম্বর তাঁদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হবে বলে জানা যায়। এর আগে শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার খাসি জবাই করে খাওয়ানোর কথা পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা ৪ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল চারটায় গ্রামটি পরিদর্শন করেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, সহ-সভাপতি রাজকুমার শাও, কেন্দ্রীয় সদস্য আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামাল কাদেরী, রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার।
ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ও তাদের সাথে কথা বলেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে বলেন, এবং যেকোন বিপদে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাস্তুচ্যুত পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের ছয়টি পরিবারকে বসবাসের জন্য ১৬ কাঠা জমি দিয়েছিলেন ইন্দ্র ধুপি নামের এক হিন্দু ব্যক্তি। প্রজন্মের ব্যবধানে ছয় পরিবারের ঘরবাড়ি বেড়ে এখন ১৬টি পরিবার, স্থানীয়ভাবে মহল্লাটি আদিবাসীপাড়া নামে পরিচিত। কিন্তু এখন সাজ্জাদ আলী নামের এক ব্যক্তি দাবি করছেন, ইন্দ্র ধুপি মৃত্যুর আগে জমিটি তার কাছে বিক্রি করেছিলেন। সেই দাবি ঘিরেই উচ্ছেদের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনটি পরিবার ঘরবাড়ি ভেঙে চলে গেছে। বাকি ১৩টি পরিবারকে আগামী রোববারের মধ্যে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।
৮০ বছরের বৃদ্ধা ফুলমনি বিশ্বাস, যিনি প্রথম ছয় পরিবারের একজন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কোথায় যাব আমরা তো এখন আন্ধার ঘরে হাতড়াইতেছি, কোথায় যাব কি করব বুঝতে পারছি না। ফুলমনির মেয়ে সরলা বিশ্বাস বলেন, এখানেই জন্ম, এটাই ছেড়ে যেতে হবে। এটা অন্যায় মনে হয়, কিন্তু কিছু করার নাই।”
গর্ভবতী পার্বতী রানী। এখন কার বাড়িত গিয়ে উঠবে সে জানেনা। স্থানীয়রা বলেন, ১৬টি পরিবারকে নাম মাত্র কিছু টাকা দিয়ে, তুলে দেয়ার পাইতারা করছে, এই জমিতে তারা দীর্ঘদিন বসবাস করছে জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। সাজ্জাদ আলী বলেন,ওই জায়গা আমার কেনা। কেনার সময়ই কয়েকটা ঘর ছিল। তাদেরকে অনেকবার উঠে যেতে বলেছি, তারা যায়নি, তাদের পুনর্বাসনের জন্য কিছু টাকা দিয়ে তাদেরকে এখান থেকে যেতে বলেছি। তাদের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। আদিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রায়ই সাজ্জাদ হাজী তাদেরকে সেখান থেকে উঠে যাওয়ার কথা বলতো, জমির সামনে দিয়ে প্রাচীর করেছে সে, তারা সেখান থেকে না গেলে লোহার গেট তৈরি করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ও ব্যক্ত করতেন তিনি। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাধ্য হয়ে আদিবাসীরা জায়গাটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ব্যাক্ত করে।