সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগির চাপ বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। সরকারি পরিসংখ্যান, চিকিৎসক ও স্বজনদের সাক্ষাৎকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য সবকিছুই বলছে, রাজশাহী নগরী ও আশপাশের জেলাগুলোতে এডিস মশার প্রজনন দ্রুত বাড়ছে, যা ডেঙ্গুর বিস্তারকে আরো ভয়াবহ করে তুলছে। রামেকে শুধু রাজশাহী জেলা বা বিভাগের রোগিরা আসছেনা বরং কুষ্টিয়া খুলনাসহ অনেক জেলা থেকেও রোগি আসছে চিকিৎসা নিতে। দীর্ঘ বর্ষাও এডিস মশা বাড়ার একটি কারণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে নতুন করে ২০ জন ডেঙ্গু রোগি শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের মোট সংখ্যা ২৭ হাজার ছাড়িয়েছে এবং এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ জনে।
গত ১৬ তারিখে নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাফিয়া বেগম একটি বেসরকারি ক্লিনিকে টেস্ট করে ডেঙ্গু সনাক্তের পর রাজশাহী মেডিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ছেলে সোহেল রানা জানান বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তিনি সম্প্রতি কোথাও বেড়াতে যাননি। তারপরও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ইতিমধ্যে তারা ডেঙ্গু রোগীর বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা, সদস্যদের খোঁজ খবর সহ সকল তথ্য নগর ভবন জনস্বাস্থ্য বিভোগে জমা দিয়ে রোগীর বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নিশ্চিতকরণসহ সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান এবং চারিদিকে মশা মারার বিষ ছিটানোর কাজ করেছে।
বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন ডেঙ্গু রোগি। হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জানান, রোগির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক রোগীকে বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে ও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক রোগি প্রাথমিক জ্বরকে সাধারণ ভাইরাসজনিত ভেবে দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। এতে তাদের শারীরিক জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে বেশিরভাগ রোগি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা ও জেলা শহরগুলোতে ডেঙ্গু রোগিকে রাখতে চায় না কতৃপক্ষরা। শনাক্ত হলেই পাঠায়ে দেয় রাজশাহী মেডিকেলে। ফলে বেড সংকট ও পর্যাপ্ত ওষধের ঘাটতি সহ নানা সমস্যায় ভুগছে রোগি ও রোগির স্বজনেরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগিরা বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। চারঘাট উপজেলার একটি রোগি বলেন, ডেঙ্গু সনাক্তের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তার কোন দায়িত্ব নিতে চায়নি, ফলে তাকে বাধ্য হয়ে রামেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বর্ষার কারণে ড্রেন, খোলা নালা, টায়ার, টব ও ছাদে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা। প্রতিটি পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ির ভেতর ও আশপাশের জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। রোগী হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাশপাতালের ই এম ও ইনচার্জ ও মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন , বেশিরভাগ রোগির সংখ্যা রাজশাহী জেলা বা তার আশেপাশের অঞ্চলের। স্থানিয় ডাক্তারদের ডেঙ্গু চিকিৎসা দেয়ার মতো সক্ষমতা থাকার পরেও তারা রোগীদের রামেকে পাঠিয়ে দিচ্ছে, ফলে এখানে রোগির চাপ তুলনামূলক বেশি। তবে, তিনি জানান মেডিকেলে কোনো রকম স্যালাইন বা ওষুধের সংকট নেই।


প্রকাশিত: August 21, 2025 | সময়: 2:42 am | সুমন শেখ