সর্বশেষ সংবাদ :

সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কমলমতি শিক্ষার্থীদের পেটানো নিয়ে লিখিত অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর হেলেনাবাদ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর, অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে বুধবার অভিভাকদের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর হেলেনাবাদ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হারুনুর রশিদ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এই শিক্ষক কমলমতি শিক্ষার্থীদের লাথি মারা, মাথায় কিল মারা, মেয়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা, পিঠে কিল মারা, শিক্ষার্থীদের পায়ের উপর পা দিয়ে চাপা দেয়া, অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ, সাময়িক পরীক্ষার খাতা জালিয়াতির মাধ্যমে ফলাফল জালিয়াতি করা, বিদ্যালয়ের গোপন তথ্য ফাঁস করা সহ নানা অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত। অভিভাবকরা স্কুলের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ওই শিক্ষকের অপসরণ দাবি করেছেন।
নগরীর হেলেনাবাদ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মা মিনা বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে আমার ছেলেকে মাথায় মারে সহকারি শিক্ষক হারুনুর রশিদ। আমার ছেলে পড়ে গেলে সেখানে তাকে লাথি মারে। বিষয়টি আমি জানার পর প্রধান শিক্ষককে বলেছি। তিনি বলেন, এই শিক্ষক কখনো কখনো মেয়ে শিক্ষার্থীদের ডাস্টার ছুড়ে মুখে মারেন। খারাপ উদ্দেশ্যে চতুর্থ ও ৫ম শ্রেণির মেয়েদের গায়ে হাত দেয়। এসব বিষয় আমরা স্কুল প্রধানকে জানিয়েছি। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিভাবক মিনাই নয়, এমন অভিযোগ আরো বেশ কয়েকজন অভিভাবক।
হেলেনাবাদ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্যই শাসন করা হয়। পড়ালেখার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকরা মারবে এটা স্বাভাবিক। আমিও বৃহস্পতিবার এক শিক্ষার্থীকে শাসন করেছি। তবে তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন।
এব্যাপারে হেলেনাবাদ-১ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ জানান, অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন বিষয়টি শুনেছি। বৃহস্পতিবার এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আমি তাকে সতর্ক করেছি। এর আগেও এমন ঘটনায় আমি নিজে বিষয়গুলো সমাধান করেছি। কিন্তু সতর্ক করা হলেও শিক্ষক হারুনুর রশিদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অভিভাকরা যেহুত অভিযোগ দিয়েছেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস হয় তো বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে।
এব্যাপারে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসার মখলেসুর রহমান, অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এমন অভিযোগ আমরা প্রত্যাশা করি না। সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে অভিভাবকরা যে অভিযোগ দিয়েছে সেটি গুরুতর। বিষয়টি তদন্ত করে ওই শিক্ষক দোষি হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৫ | সময়: ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর