সর্বশেষ সংবাদ :

চারঘাটে ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সাতটি স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে রয়েছে জটিলতা। আদালতে রয়েছে মামলা। এতে চরম অব্যবস্থাপনায় চলতে বিদ্যালয় গুলো। শিক্ষার পরিবেশ হচ্ছে নষ্ট। দ্রুত এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পুরন সহ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার দাবি করেছেন অভিভাবক সহ এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চারঘাট উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৭৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই সকল বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৭৩ জন। অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২৬ জন। এর মধ্যে ৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে জটিলতা থাকায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বাকি ৪০টি স্কুলে ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব প্রদান করে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো চলছে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর বিপরীতে শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৪৫৩ জন। তবে অনুমোদিত শিক্ষক চেয়ে কম থাকায় ওই পদে শূন্য রয়েছে ১০ জন। বনকিশোর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিমুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাকঁড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুদিরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পরানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাগিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার প্রায় ১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। এতে করে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ সামলাতে অনেক বেগ পেতে হয়।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় এমনিতেই একজন শিক্ষক কম হয়। এরপর প্রাশসনিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিস গেলে পারস্পারিক সমঝোতায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক দিয়ে নির্ধারিত পাঠদান সম্পন্ন করতে হয়।
এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব পালন করছেন এমন শিক্ষকগণ ১ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পেলেও বাড়তি দ্বায়িত্ব পালন করছেন এমন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের জন্য সরকারী অর্থনৈতিক সুবিধা নেই বলেও জানান তারা।
এদিকে একাধিক অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায় বিদ্যালয়গুলো অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ অনেক সময় সঠিক ও দ্রুত কোন সিদ্ধান্তও নিতে পারেন না। তাছাড়া শিক্ষক সংকট থাকায় ছেলে মেয়েদের পাঠদান ব্যহত হয় বলে জানান তারা।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরেই প্রায় ৪০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। তবে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি জানান।


প্রকাশিত: August 1, 2025 | সময়: 4:22 am | সুমন শেখ