, , ।
মেহেদী হাসান, পুঠিয়া: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর বানেশ্বর হাটে চরম অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। হাটের বিভিন্ন অংশে ময়লার স্তুপ জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বিশেষ করে মাছ ও মাংস বাজারে। পচা-দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও ময়লার স্তুপে বাজার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বেচাকেনা।
প্রতি বছর হাটটি থেকে সরকার ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও উন্নয়নে নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। শনিবার ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুইদিন বসে এই হাট। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা। নেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটে কাদা ও রক্তের স্রোত।
হাটের মাংস বিক্রেতা মালেক আলী জানান, ‘পাশেই ময়লার ভাগাড়। এমন দুর্গন্ধে টিকে থাকা কষ্টকর। মাছ ও মাংস হাটের পানি জমে থেকে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশে বেচাকেনা করছি।’
মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘মাছ বাজারের পাশেই ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে বেচাকেনা করা গেলেও বর্ষাকালে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ময়লার দুর্গন্ধ ও ছোট ছোট পোকা হাটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।’
ক্রেতা আসলাম বলেন, ‘শুনেছি হাটটি বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয় এবং ব্যাংকে আরও ৯/১০ কোটি টাকা আছে। কিন্তু উন্নয়ন নেই। নোংরা পরিবেশের কারণে মানুষ বাজারে আসতেই চায় না।’
আরেক ক্রেতা সবুজ আলী জানান, ‘বর্ষার সময় হাটের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়। পানির সাথে মিশে থাকে পচা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য। এতে শরীরে পোকা উঠে, বাজারে দাঁড়ানোই যায় না।’
বানেশ্বর বণিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘আম, খেজুরের গুড়, সবজি, গরু-ছাগল ও গৃহস্থালি পণ্যের জন্য বিখ্যাত এ হাট। প্রতিবছর কোটি টাকার ইজারা হলেও হাটের উন্নয়নে তেমন নজর নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।’ হাটের মাছ ও মাংস বাজারে দুর্গন্ধ, ড্রেনেজ সমস্যা সহ নানা অভিযোগে ক্ষোভ জানাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে চললেও বর্ষায় হাটজুড়ে নোংরা পানি ও ময়লা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর হোসেন নির্ঝর বলেন, ‘হাটের নোংরা পরিবেশের অন্যতম কারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। আমরা ইতোমধ্যে ড্রেনেজ প্রকল্প হাতে নিয়েছি, দ্রুত কাজ শুরু হবে। সবজি, মাছ ও মাংসের পট্টিতে টিনশেড নির্মাণ সহ বন্ধ ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। হাটের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন কাজ করছে।’
স্থানীয়দের দাবি, এত বড় রাজস্ব আয় হলেও হাট উন্নয়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না হাট কর্তৃপক্ষ। দ্রুত পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে হাটের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।