, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়েছেন রাজশাহীর কুলসুম খাতুন ওরফে মুনিয়া ও তাঁর স্বামী জোবায়েদ আহমেদ জয়।
সরল বিশ্বাসে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরসহ আশপাশের গ্রামের বহু যুবক তাঁদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দেন। এরপর পাসপোর্ট সংগ্রহ করে ভিসার কথা বলে গত ফেব্রুয়ারিতে এলাকা ছাড়েন এই দম্পতি। তারপর থেকে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতারিতদের মধ্যে রয়েছেন দৌলতপুর সদরের জাহিদ হাসান, শুভ বিশ্বাস মানিকসহ অনেকে। জাহিদ কুলসুমের রূপালী ব্যাংক একাউন্টে ৫ লাখ টাকা জমা দেন। মানিক নগদ দেন সমপরিমাণ অর্থ। দুজনের মতো আরও অনেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে দেন।
প্রতারক কুলসুম খাতুন রাজশাহীর পবা উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা আবদুস সালাম মিয়া ওরফে টেনু। এলাকায় কুলসুমের বহুবিবাহের পরিচিতি রয়েছে। সর্বশেষ তাঁর স্বামী জোবায়েদ দৌলতপুরের বাসিন্দা হলেও তাঁরাও বাড়িঘর বিক্রি করে পালিয়ে গেছেন।
দৌলতপুর বাজারের ব্যবসায়ী আরেজ উদ্দিনের অভিযোগ, তাঁর দোকান থেকে কুলসুম ২ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে টাকা পরিশোধ না করেই উধাও হন। সব মিলিয়ে এই দম্পতি প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ বিষয়ে কুলসুমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ইতালির রোমে অবস্থান করছেন। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ইতালির লাল পাসপোর্টের ছবি থাকলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর সেই ছবি সরিয়ে দেন এবং হোয়াটসঅ্যাপ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
দৌলতপুর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, ‘‘বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই প্রতারক দম্পতি আরও অনেককে ফাঁদে ফেলতে পারে।