সর্বশেষ সংবাদ :

লাফিয়ে বাড়ছে কাঁচা মরিচের দাম

রায়হান আলম, নওগাঁ: হঠাৎ করে অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৫ থেকে ৬ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। শুক্রবার সকালে নওগাঁ পৌরসভার খুচরা বাজার এবং সিও অফিস এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। একই সময়ে রাজশাহীর বাজারেও কাঁচা মরিচের দাম আরো বেড়েছে। গতকাল সকালে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মরিচের দাম ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছিল।
বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে মরিচ সংগ্রহ করতে পারছেন না কৃষকেরা। এছাড়া জমিতে পানি জমে যাওয়ায় মরিচগাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, আর তার প্রভাব পড়েছে দামে।
জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও নওগাঁর বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচা মরিচ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে, আর খুচরায় বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। বর্তমানে সেই মরিচ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে, আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। এভাবে দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে।
সিও অফিস বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মাসুদ রানা বলেন, ‘যে মরিচ এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে কিনেছি, সেই মরিচ আজ কিনতে হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। কালও ১২০ টাকা কেজিতে কিনেছি, আজ তা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাজারের যা অবস্থা, মনে হচ্ছে কাল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে পৌঁছাবে।’
আরেক ক্রেতা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘বর্ষার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এখনো এমন সংকট হয়নি যে বাজারে মরিচ পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে যদি নিয়মিত অভিযান চালানো হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।’
নওগাঁ সিও অফিস বাজারের খুচরা বিক্রেতা সাগর আলী বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে হঠাৎ কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। শুক্রবার ভোরে পৌর পাইকারি বাজার থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে। তাই এখন খুচরায় ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে বৃষ্টি কমলে আবার দাম কমে আসবে।’
সদর উপজেলার ব্রুজরুক আতিতা গ্রামের চাষি রাসেল হোসেন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও হাটে গিয়ে মরিচ ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। সেই দামে তো শ্রমিকের মজুরি তুলতেই পারতাম না। এখন টানা বৃষ্টিতে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, মরিচও তুলতে পারছি না।’
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৯৬৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে।
অন্যদিকে আত্রাই উপজেলা প্রতিনিধি ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উপজেলার বান্দাইখাড়া হাটে কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ খানেক আগে মরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কিনেছে গ্রাহক। হঠাৎ দাম বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী চকশিমলা গ্রামের ভোলা জানান, গত হাটে কাঁচা মরিচের দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। আমরা নিজেরাও বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
একই হাটের আরেক ব্যবসায়ী উত্তর বিল গ্রামের উজ্জ্বল সরদার বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ক্রেতা বান্দাইখাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন তরফদার বলেন, এত বেশি দামে কাঁচা মরিচ কেনা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আগে যা ৫০ টাকায় এক কেজি কিনতাম, এখন তা ২০০ টাকায় কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। এতে পরিবারের খাদ্য ব্যয় বেড়ে গেছে। সরকার বা কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই মূল্যবৃদ্ধি রোধে ব্যবস্থা নেয়।
স্থানীয় বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষ দ্রুত দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, যদি দাম এমনই বাড়তে থাকে, তবে আগামী দিনে কাঁচা মরিচ সাধারণের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাবে।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তিতে পণ্য কিনতে পারেন। বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: July 12, 2025 | সময়: 4:21 am | সুমন শেখ

আরও খবর