, , ।
স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা সীমান্ত এলাকায় পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে মাদকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কমেনি সেবনকারি। উপরোন্ত একের পর-এক বেড়েই চলেছে অপরাধ প্রবনতা। আর এসব ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অভিযোগ উঠেছে,একটি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত একজন নেতা এখন বাঘায় মাদক-চোরাচালান নিয়ন্ত্রন করছে। তার নামে কেবল বাঘা থানায় রয়েছে ১৪ টি মাদক মামলা। তবে পুলিশ শনিবার (২৮ জুন) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গাঁজা এবং ফেন্সিডিল উদ্ধার সহ মাদকের সাথে সম্পৃক্ত পাঁচজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, সীমান্তবর্তী বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। একই সাথে বাড়তে শুরু করেছে মাদক আমদানি। শুষ্ক মৌসুমের চেয়ে বর্ষায় সুবিধা বেশি মাদক পাচার। এখন রাতে ভারত থেকে নদী পথে নেশা জাতীয় দ্রব্য ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও হেরোইন হরহামাশেই প্রবেশ করছে দেশের অভ্যান্তরে বলে লোকমুখে প্রচারিত।
এ নিয়ে সম্প্রতি উপজেলা আইন শৃংখলা , মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন, চোরাচালান প্রতিরোধ ও নাশকতা প্রতিরোধ বিষয়ক চারটি মাসিক সভাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাঘার সীমান্ত এলাকার দু’জন স্কুল শিক্ষক জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে অপরাধ প্রবনতা বেড়েছে। এর প্রধান কারণ মাদক। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে সক্রিয় হয়ে উঠছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তারা রাত-দিন সমান তালে সীমান্ত এলাকায় মাদক বিক্রী করছে। এর আগে যারা আত্মগোপনে ছিল তারাও এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা। অভিযোগ রয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে চুনোপুটিরা গ্রেফতার হলেও চিহৃিত মাদক ব্যবসায়ী গডফাদাররা বর্তমানে কৌশল পরিবর্তন করে সীমান্তে দৌরাত্ন বৃদ্ধি করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কর্মকান্ড।
বাঘার আলাইপুর সীমান্ত এলাকার লোকজন জানান, অত্র এলাকায় প্রতিনিয়ত বহিরাগত কতিপয় যুবক দামি মোটরে সাইকেল যোগে এসে মাদক ক্রয় সহ সেবন করে চলে যাচ্ছে। এ অঞ্চলে এক সময় এক বোতল ফেন্সিডিল তিন’শ থেকে পাঁচশত টাকা বিক্রী হলেও বর্তমানে এর দাম বেড়ে ১৫ শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রী হচ্ছে। তার পরেও কমছেনা সেবন কারিদের সংখ্যা।
তারা আরো বলেন, এ উপজেলার সীমান্তবর্তী তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে একটি ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন রাজনৈতিক পদ ধারী জনৈক নেতা। তার নামে কেবল বাঘা থানায় রয়েছে ১৪ টি মাদকের মামলা। অথচ তার নাম ভয়ে কেউ উচ্চারণ করেন না। তবে তদন্ত করলে সেটি নিমিষে প্রকাশ পেয়ে যাবে। এই মাদকের প্রবনতা বৃদ্ধির ফলে এলাকায় বিকাশ হ্যাকিং থেকে শুরু করে মানুষের বাড়িতে , মোটর সইকেল ও গরু-ছাগল চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবনতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে গত তিন মাসে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে ১০ টি চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঐ এলাকার কলেজ শিক্ষক গোলাম তোফাজ্জল ।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাঘা থানা পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, রাজশাহীর বাঘা সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা। বহুকাল থেকে এ অঞ্চলে চলে আসছে মাদকের ব্যবসা। অনেকেই বাঘাকে মাদকের রাজধানী বলে অখ্যায়িত করে থাকেন। এখানে ১০-১২ টি গ্রাম মিলে প্রায় তিন শতাধিক মাদক চোরাকারবারী রয়েছে। তবে থানায় তালিকা রয়েছে দুই শতাধিক ব্যাক্তির নামে। এদের মধ্যে দু’একজন এ ব্যবসা থেকে সরে দাড়ালেও অনেকেই এ ব্যবসাটাকে অন্য আরো পাঁচটি ব্যবসার মতো মনে করে রাতা-রাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, বিগত সরকার আমলে বাঘা থানায় এক মাসে ৩৫ টি মাদক মামলা রেকর্ড হওয়ার নজির রয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে থানায় মাদক মামলা পুর্বের চেয়ে কিছুটা কমেছে।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আ.ফ.ম আসাদুজ্জামান বলেন , ছোটখাটো দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া থানার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। তিনি বলেন, পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মুল করা সম্ভব নয়। এ জন্য তথ্য দিয়ে জনগনকে সহায়তা করতে হবে। অপর দিকে সক্রিয় হতে হবে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সহ সীমান্তরক্ষী বিজিবি কর্মকর্তাদের।
আমার জানা মতে, গত ছয় মাসে বিজিবির পক্ষ থেকে থানায় মাত্র দু’টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ দিক থেকে আমরা গত মাসে মাদক সংক্রান্তে ২৫ টি মামলা রুজু করেছি। সর্বশেষ শনিবার রাতেও বিশেষ অভিযান চালিয়ে গাঁজা এবং ফেন্সিডিল উদ্ধার-সহ পাঁচজনকে আটক করেছি। তিনি বলেন, মাদক প্রতিরোধে আমাদের তৎপরতা অব্যহত আছে এবং থাকবে।
নুরুজ্জামান /শামি