সর্বশেষ সংবাদ :

খরার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে অকৃষি জমির পরিমাণ এখন ৪৫ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে প্রায়ই খরার প্রকোপ দেখা যায়। খরা অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত দেশের অন্তত ২২টি জেলা- যা মোট জেলার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি- এই অঞ্চলে রয়েছে। খরার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে অনাবাদি বা অকৃষি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ শতাংশে। খরা ও পানির অভাবে ১৯৭১ সালের পর থেকে কৃষি বা চাষের জমি হারিয়েই চলছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।
বিশ্ব খরা ও মরুকরণ দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বরেন্দ্র এলাকার কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি সংলাপের আয়োজন করেছে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশের সদস্য সংস্থা পরিবর্তন। ‘ভূমি পুনরুদ্ধার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজশাহীর হোটেল ওয়ারিসনে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে এসব তথ্য উঠে আসে।
মহিলা পরিষদ সভাপতি কল্পনা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক তরিকুল আলম, মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান, রুলফাও এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন, রাজশাহী জেলা কৃষক দলের সভাপতি শফিকুল আলম সমাপ্ত ও পরিবর্তন পরিচালক রাশেদ রিপন।
খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), স্থানীয় কৃষক, আদিবাসী নেতা এবং শিক্ষাবিদগণ অংশগ্রহণ করেন। মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান, পার্টনার পরিচালক আলিমা খাতুন, বারসিক সমন্বয়কারি শহিদুল আলম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সাধারণ সম্পাদক বিমল রাজোয়ার, আসাউস নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার সাও এবং দিনের আলো পরিচালক মোহনা, কৃষক মীর আনাম। তারা বলেন বরেন্দ্রভূমির খরা পরিস্থিতি, কৃষি ও জীবিকার উপর এর প্রভাব, বর্তমান পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং পানি ব্যবস্থাপনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা জরুরী ।
বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে প্রায়ই খরার প্রকোপ দেখা যায়। দেশের অন্তত ২২টি জেলা- যা মোট জেলার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি- এই অঞ্চলে রয়েছে। খরার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে অনাবাদি বা অকৃষি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ শতাংশে। খরা ও পানির অভাবে ১৯৭১ সালের পর থেকে কৃষি বা চাষের জমি হারিয়েই চলছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।
বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রভাবে কৃষিজমি হ্রাসের ফলে একদিকে যেমন কৃষকের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তেমনি ফলন কমে যাওয়ায় সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তার উপর এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে যা সময়ের সাথে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।খরা-প্রবণ অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা, ক্ষয়িষ্ণু পানি সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, ফসলের বৈচিত্র্য এবং আবহাওয়াভিত্তিক কৃষি তথ্য সেবা নিশ্চিত করা, মৃতপ্রায় জমিতে জৈব সার ও কৃষি-অনুকূল চাষাবাদ চালু করার দাবি জানান তারা। এ ছাড়াও তারাজাতীয় বাজেটে জলবায়ু অভিযোজন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, জমির উপর ভূমিহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায়জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।


প্রকাশিত: June 27, 2025 | সময়: 4:36 am | সুমন শেখ