, , ।
সানশাইন ডেস্ক: কয়েক দশকের ছায়াযুদ্ধ শেষে গত ১৩ জুন আচমকাই ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে বসে ইসরায়েলে। এরপর ইরান প্রত্যাঘাত করলে বাধে আকাশপথে পাল্টাপাল্টি যুদ্ধ। এই হামলা, পাল্টা হামলায় একদিকে ইরানের সামরিক স্থাপনার যেমন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তেমনি তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রও ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে তেল আবিব, জেরুজালেম, হাইফাসহ ইসরায়েলের অসংখ্য শহরের একাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
এরই এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র বি-২ বোমারু বিমানের সাহায্যে ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে উত্তেজনা চরম আকারে পৌঁছায়। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ বেধে যাবে যাবে এমন আতঙ্ক, অস্থিরতা।
এরপর মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া টানটান ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও দ্রুত মোড় নেয়। মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়, হোয়াইট হাউজের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হয় যুদ্ধবিরতি, তারপর সেই চুক্তিও ভেঙে পড়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে টানটান সেই ২৪ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম ইঙ্গিত ছিল সোমবার কাতারে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে শান্ত ভাষায় জারি করা একটি সতর্কবার্তা। ‘নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন’- এমনটাই ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্দেশনা, সঙ্গে অবশ্য ‘সাবধানতার খাতিরে এমন নির্দেশনা’ বলে আশ্বস্তও করা হয়েছিল।
কিছুক্ষণ পর যুক্তরাজ্যও এমন নির্দেশনা জারি করে। এটা সবসময় অনুমিত ছিল যে ইরান কাতারে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে। উপসাগরের এ দেশটিতে আল-উদেইদ সামরিক ঘাঁটির অবস্থান, রাজধানী দোহার বাইরে বিস্তৃত একটি স্থাপনা, এখানে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন থাকে এবং এখান থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বিমান অভিযান সমন্বয় করা হয়।
শনিবার ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকে তেহরানের নেতারা বারবারই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র যে তিনটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, তার মধ্যে ফরদোর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাটিও আছে। ইরানি শাসকদের খুব পছন্দের এ স্থাপনাটি পাহাড়ের নিচে মাটির অনেক অনেক গভীরে অবস্থিত।
এদিকে গত ১৩ জুন ইরানে ইসরায়েলের হামলা শুরুর পরপরই শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে কোনো গোপন বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সকলের ধারণা। তিনিও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কৌশলগত স্থাপনার একটিতে পাল্টা আঘাত হানার নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন। কাতারের সরকার দেশটির আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয়। দোহার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা তাদের বিমানবন্দরের পথে থাকা বিমানগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া শুরু করেন, এর ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দরে নামতে চাওয়া বিমানগুলো বাধ্য হয়ে উপসাগরের অন্যান্য দেশে অবতরণ শুরু করে।
বিবিসি সেসময় আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকির’ খবর জানতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোকে জানান, কাতারের দিক মুখ করা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক যন্ত্র দেখতে পেয়েছেন তারা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও তার শীর্ষ জেনারেলরা হোয়াইট হাউজে ছুটে যান।এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়; বিশাল উঁচু উঁচু সব ভবনের ওপরে আকাশের গায়ে ইরানি হামলা মোকাবেলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের কাজের ছাপ দেখা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো প্রত্যাঘাতের খবর দেওয়া শুরু করে। কিছুক্ষণ পর দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর খবর নিশ্চিত করে। “এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো তাদের শক্তি নয়, বরং দুর্বলতা,” বলে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের আগে কাতার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। যদিও তেহরানের নিশানা ছিল মার্কিন ঘাঁটি, কিন্তু সেটি তো তাদের মাটিতে। ফলে ইরানের ‘নির্লজ্জ আগ্রাসনে’ তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে বলে কাতারের সরকারের দেওয়া কড়া ভাষার বিবৃতিতে জানানো হয়।
অবশ্য একই বিবৃতিতে বলা হয়, সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে। হামলার আগেই ওই মার্কিন ঘাঁটিটি খালি করে ফেলা হয়েছিল এবং হামলায় কেউ আহত বা নিহত হয়নি। প্রায় কাছাকাছি সময়ে খামেনির এক্স অ্যাকাউন্টে এক ছবিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে ও ছেঁড়া-ফাটা, জরাজীর্ণ মার্কিন পতাকায় আগুন জ্বলছে এমন গ্রাফিকস পোস্ট করা হয়।
তবে সেখানে ধ্বংসাত্মক কোনো কথাবার্তা ছিল না। লেখা ছিল, “আমরা কারও ক্ষতি করিনি।” তখন বোঝা যেতে থাকে, আল-উদেইদে ইরানের হামলার পরিকল্পনার খবর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার আগেই পেয়েছে। বিশ্লেষকরা তখন বলতে শুরু করেন, ইরানের হামলার মূল লক্ষ্যই ছিল ঘরে মুখ রক্ষা করা, একইসঙ্গে উত্তেজনাবৃদ্ধি এড়ানো।
তেহরানের শাসকরা এখন বলতে পারবে, তারা মার্কিন হামলার বদলা নিতে পেরেছে। কিন্তু এমনভাবে নিয়েছে যেন তুলনামূলক আরও ক্ষমতাধর প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না হয়। উত্তেজনা নামতে শুরু করে, বিশ্ব অপেক্ষা থাকে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখন তার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকবেন। ‘দুর্বল’, ‘প্রত্যাশিত’, ‘কার্যকরভাবে প্রতিহত’।
ইরানের হামলাকে এভাবেই বর্ণনা করেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার বার্তা যত এগুতে থাকে, ততই বোঝা যায়- উত্তেজনা থিতিয়ে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে হামলার বিষয়টি ‘আগেভাগে জানানোয়’ ধন্যবাদ দেন এবং বলেন, তারা তাদের সব উত্তেজনা ঝেড়ে ফেলেছে। “হয়তো ইরান এখন ওই অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে এগোতে পারে, আমি খুশিমনে ইসরায়েলকেও একই কাজ করতে উৎসাহ দেবো,” বলেন ট্রাম্প।
দুই ঘণ্টা আগে ইরান মার্কিন এক বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। দুই দিন আগে ট্রাম্প ইরানে নজিরবিহীন হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন; সেই ইরান, যাকে অতীতে তিনি বারবারই ‘খারাপ এবং বিশ্বের জন্য প্রাণঘাতী বিপদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এখন তিনি শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ সেই দেশটির নেতাদের শান্তির প্রস্তাব দিচ্ছেন!
পর্যবেক্ষকদের মাথা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরিয়ে দেওয়া তার সিরিজ পোস্ট শেষ হয়- ‘অভিনন্দন বিশ্ব, এখন শান্তির সময়’ দিয়ে। বোঝা যাচ্ছিল, পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরায়েল ও কাতারের (রাশিয়াও কী?) মধ্যে টানা আলোচনা চলছে। ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন। মূলত ইরানের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুর যুদ্ধেই তিনি স্বল্পক্ষণ সঙ্গী হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ওই দুই নেতার মধ্যে কী কথা হয়, তা কেউ বলতে পারছে না। তবে যে বার্তা সেখান থেকে বের হয়ে এসেছে সেটি হল- এখন যুদ্ধের ইতি টানার সময়।
এদিকে ট্রাম্পের ডেপুটি জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রধান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ্র সরাসরি ও গোপন কূটনৈতিক চ্যানেলের সাহায্যে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দল বসে গেল এমন একটা জিনিস অর্জন করতে, যা একদিকে প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের জন্য যেমস মূল্যবান তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রেও দুর্লভ, তা হল- চুক্তি।
চুক্তি হচ্ছে, হচ্ছে না কিছুক্ষণের মধ্যে এমন খবরে সয়লাব হয়ে গেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তবে ধীরে ধীরে এটা পরিষ্কার হয়ে এল যে, অগ্রগতি হচ্ছে, উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা প্রকট। বাংলাদেশ সময় রাত ৪টার কিছু পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেন। এবার তার বার্তা শুরু হয়, ‘ধন্যবাদ সবাইকে’ দিয়ে।
“পুরোপুরি ও সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান ও ইসরায়েল। ‘চলমান ও শেষ মুহূর্তের কিছু অভিযানের’ জন্য কিছু সময় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এটি (যুদ্ধবিরতি) ছয় ঘণ্টা পর কার্যকর হবে। “এই সংঘাত এখন থেকে ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত হবে,” লেখেন ট্রাম্প। ছয় হাজার মাইল দূরের মধ্যপ্রাচ্যে তখন নতুন এক দিন শুরু হচ্ছে।
ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজা শুরু করে, লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। কারণ, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আসছে, সতর্কবার্তায় বলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। তখন ৬০ মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ইরান তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানায় তেল আবিব। সকাল যখন ফুটছে তখন আরও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার কথা জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
বেরসেবায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। চারজন নিহত হয়, এদের মধ্যে তিনজন একটি নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ওই কক্ষটি দুমড়ে মুচড়ে দেয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সেসময় ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, তেহরান তার (নেতানিয়াহু) দেশ লক্ষ্য করে অন্যতম বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
একই সময়ে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, রাতভর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় তাদের উত্তরাঞ্চলীয় শহর আস্তানে-ইয়ে আশরাফিয়াতে ৯ জন নিহত হয়েছে। এ নিহতদের মধ্যে পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ রেজা সিদ্দিকি সাবেরিও আছে বলে খবর পাওয়া যায়। ওই অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর জানান, চারটি অ্যাপার্টমেন্ট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের অনেক ঘরেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবিতে বাড়িঘরে ঘেরা একটি রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ধরতে ইসরায়েল ‘শেষ মুহূর্তের ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে বলে অভিযোগ করে ইরান। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী পরে রাতভর অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করে। এদিকে ইরাকের সরকার দাবি করে, তাদের ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হয়েছে। প্রতিবেশী ইরাকে ইরানপন্থি অনেক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়, তবে এদিনের ড্রোন হামলার নিশানায় কী ছিল বিবিসি তা জানতে পারেনি।
তবে এটা স্পষ্ট যে, বিরতি কার্যকর হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই পক্ষই যুদ্ধ চালিয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “যুদ্ধবিরতি এখন থেকে কার্যকর। দয়া করে কেউ এটি ভাঙবেন না।” কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির কথা জানায়।
তেল আবিবের বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নির্মূলে যুদ্ধের যেসব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল, সবই অর্জিত হয়েছে। এবং এর মাধ্যমে তারা ‘বিশ্ব শক্তির’ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
আগের রাত থেকেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্প প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তেহরানের আগ্রহের জানান দিচ্ছিলেন। পরে তিনিও বলেন, “ইসরায়েল যদি স্থানীয় সময় ৪টার আগে তার হামলা বন্ধ করে, তাহলে আমাদেরও আর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোর ইচ্ছা নেই।”
কিন্তু খুব বেশি সময় যায়নি, তার মধ্যেই এই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা সক্রিয় হয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা অস্বীকার করলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, তিনি তার বাহিনীকে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে ইরানি সরকার সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে তুমুল হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েলের আরেক কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেজালের স্মতরিচ হুংকার দিয়ে বলেন, “তেহরান কেঁপে উঠবে।” সেসময় মনে হচ্ছিল ট্রাম্পের তড়িঘড়ি যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বোধহয় কার্যকর হওয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টাই টিকল। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো যখন ইরানি রাজধানীর পথে সেসময় ট্রাম্প আবার পোস্ট করেন। লেখেন, “ওই বোমাগুলো ফেলবেন না। যদি আপনারা (ইসরায়েল) এটা করেন তাহলে তা হবে (যুদ্ধবিরতির) গুরুতর লঙ্ঘন। পাইলটদের ঘরে ফিরিয়ে নিন, এখনি।”
সকালে হোয়াইট হাউজের লনে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে একটি হেলিকপ্টার, যেটি করে তিনি যাবেন মেরিল্যান্ডের মার্কিন ঘাঁটিতে, সেখান থেকে নেদারল্যান্ডসের নেটো সম্মেলনে। আরও অপেক্ষায় রয়েছেন সাংবাদিকরা, রাতভর একের পর এক খবর, সম্ভাবনা, আশঙ্কার খবর দিয়ে তারা এখন শুনতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্টের মত।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল ও ইরান উভয়েই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল, তবে চুক্তিটি এখনও বলবৎ আছে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে ফিরিয়ে নিতে নেতানিয়াহু অনুরোধ জানানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সময় শুরু হওয়ার পর সম্ভবত একটি ইরানি রকেট ছোড়া হয়েছিল, এরপর ইসরায়েল তার পাল্টা জবাব দিতে ছুটে যাচ্ছে। এদের শান্ত হওয়া দরকার।”
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘ভুল করে ছোড়া হয়েছে’ বলে মনে হচ্ছে এবং ‘কোথাও আঘাতও হানেন ‘, বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেসময় তাকে ক্ষুব্ধ দেখাচ্ছিল। তিনি বলেন, চুক্তিতে রাজি হওয়ার পর ‘আমি কখনো দেখিনি এমন ধরনের’ হামলার প্রস্তুতি নেওয়ায় তিনি ‘ইসরায়েলের ওপর অসন্তুষ্ট’।
“আমি ইরানের ওপরও খুশি নই,” বলেছেন তিনি। এরপর হেলিকপ্টারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার মুহূর্তে ট্রাম্প ইরান-ইসরায়েল উভয় দেশের ওপরই রাগ ঝেড়ে বলেন, এই দুই দেশ এত লম্বা সময় ধরে যুদ্ধ করেছে যে তারা জানেই না তারা কী করছে।
ট্রাম্প পরে নেতানিয়াহুকে ফোন করেন বলে হোয়াইট হাউজের এক সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে। নেটো সম্মেলনের পথে থাকা অবস্থায় আকাশেই ওই ফোনকলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘নজিরবিহীনভাবে কঠোর ও সরাসরি’ সব বলেছেন বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। “নেতানিয়াহু পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ করা উদ্বেগের বিষয়টি বুঝতে পারেন,” বলেছে সূত্রটি।
পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদেরও ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানে আক্রমণের পথে থাকা যুদ্ধবিমানগুলো ফিরিয়ে নিতে বলেছেন। তেহরানের নেতাদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের চিন্তায় যতকিছু আছে তার মধ্যে ‘পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর’ ভাবনা সবার শেষে থাকবে।