, , ।
ইবতিদা ফেরদৌস, পাঁচবিবি :
ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও পাঁচবিবির শিক্ষার্থীদের মাঝে রয়ে গেল আনন্দের এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস। রোববার (৮ জুন) সকালে পাঁচবিবি লাল বিহারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাঁচবিবি শিক্ষার্থী সমিতি’র ঈদ পূর্ণমিলনী, নবীনবরণ, কৃতিমুখ সংবর্ধনা ও বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠান।
কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হলেও এরপর একে একে কবিতা আবৃত্তি, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, রাফেল ড্র ও কৃতীদের সংবর্ধনার মাধ্যমে জমজমাট হয়ে ওঠে দিনব্যাপী আয়োজনটি।
শিক্ষার্থীর পাশে শিক্ষার্থী এই মানবিক চেতনায় গড়ে ওঠা পাঁচবিবি শিক্ষার্থী সমিতি প্রতিবছরই আয়োজন করে এমন এক মিলনমেলার, যা হয়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রীতি, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক।
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থীকে এদিন সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া ১৩ জন মেধাবী কে শিক্ষার্থী সমিতি ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থী মো. সাজীদ হোসেন বলেন, আজকের দিনটা শুধু আমার নয়, আমার পরিবার ও আমার বিদ্যালয়ের জন্যও গর্বের। এই সংবর্ধনা আমাকে মনে করিয়ে দিল আমার স্বপ্নের মূল্য আছে।
অন্যদিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মেহেনাজ মোস্তারিন মৌরিন বলেন , মেধাবিরি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ এর মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরো অনুপ্রাণিত হবে এবং ভালোভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দিবে।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান জিম ও মোকাররম জামিলও বলেন, এই স্বীকৃতি তাদেরকে আরও সাহসী করে তুলেছে সামনে এগিয়ে যেতে।
শিক্ষার্থী সমিতির সহ-সভাপতি আখের আওয়াল বলেন, আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চেয়েছি, যেখানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একে অন্যের পাশে দাঁড়ায়। যারা ভালো করেছে তাদের উৎসাহ দেই, আর যারা লড়ছে প্রতিকূলতায়, তাদের পাশে দাঁড়াই সহানুভূতিতে। শুধু মিলনমেলা নয়, এই সমিতি এখন মেধাবী অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক সহায়তাও দিচ্ছে।
শিক্ষার্থী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবু রায়হান মুকুল বলেন, এই সংগঠন কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এটি আমাদের সম্মিলিত আত্মা। আমরা চাই, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব এখান থেকেই জন্ম নিক। পাঁচবিবির শিক্ষার্থী সমিতি যেন হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ছোট ছোট সম্ভাবনাগুলোর একটি বিশাল উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী সমিতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান। তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে আমি যেন শিক্ষার্থীদের চোখে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ দেখছি। এই সমিতি প্রমাণ করেছে মানুষ বড় হয় শুধু স্বপ্নে নয়, কাজে। এখানকার বিশেষত্ব হলো, তারা শুধু কৃতীদের নয়, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবীদের খুঁজে নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা রিয়াজ, সাবেক অধ্যক্ষ আবু হাসনাত মণ্ডল হেলাল, প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. মো. গোলাম আযম চৌধুরী, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর রহমান শাহিন এবং লাল বিহারী পাইলট সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান সহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পাঁচবিবি শিক্ষার্থী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ।
ইবতিদা /শামি