সর্বশেষ সংবাদ :

অনিয়মে চলে চারঘাট ভূমি অফিস

স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট: অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে রাজশাহীর চারঘাট ভূমি অফিস। পদে পদে ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে ভূমি অফিসটির অনিয়মই যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। দালাল ছাড়া এখানে কাজ হয় না। টাকা ছাড়া নড়ে না একটি ফাইলও। এতে করে প্রতিনিয়ত চরম হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে সক্রিয় রয়েছেন একাধিক দালাল চক্র। চক্রটি নানভাবে নিয়ন্ত্রন করছেন ভূমি সংক্রান্ত কাজকর্ম। এসব দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এসব দালাল চক্র ভূমি অফিসে সরকারী কর্মচারীদের মতো ফাইল পত্র নাড়াচাড়া করে। বোঝার উপায় নাই এরা ভূমি অফিসে কর্মরত কোন স্টাফ নাকি দালাল। অভিযোগ রয়েছে এসব দালাল চক্র ভূল ও মিথ্যা তথ্য সংযোজন করে পুনরায় তা ঠিক করে দেয়ার নামে ভুমি মালিকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। নামজারী, মিসকেস, প্রস্তাবিত খতিয়ান ও খাজনায় অতিরিক্ত টাকা ছাড়া আবেদন গ্রহন করে না ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা।
এ ছাড়াও তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চারঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকতাদের যোগসাজেশে বাংলাদেশ গেজেট ভিপি ‘ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি গোপনে ২০১২ সালে প্রকাশিত ’ক’ তালিকাভুক্ত ভেস্টেড প্রপার্টি (ভিপি) ৫ শতাংশ জমি ২০২২ সালে হোল্ডিং অনুমোদন দিয়ে খাজনার কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়।
জমিটি ৪২ নং চারঘাট মৌজার আর এস ৩৬৬ নং দাগের অর্ন্তভুক্ত। গেজেটটির ৮৩৭৩ নং পাতার ৩৯ নং ক্রমিকে এস এ ৫৬৯, আর এস ৫৩৬নং দাগের ৫ শতক জমি উল্লেখ করা হয়।
গেজেটটি প্রকাশিত হওয়ার পর পূর্বের তহশীল উক্ত পাতায় লাল কালির লেখা ফু¬ইড দিয়ে মুছে দিয়ে অনলাইনে হোল্ডিং অনুমোদন দিয়ে দাখিলা সরবরাহ করেন। দাখিলা নং ৮১২৫২৪০৩৫৪১৯।
দাখিলাটি পেয়ে মুনজুর পিতা আশরাফ সাং চারঘাট জমিটি নিজ নামীয় বলে জেলা প্রশাসক রাজশাহীর অধিনে অধিগ্রহন শাখা হতে ১১ লক্ষ ২১ হাজার ৯৬৫ টাকা উত্তোলন করেন। চেক নং ০৮৩২৯২৮। টাকা গ্রহণের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৫। এল,কেস নং ০৯/২০২১-২০২২। তবে মুনজুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, অধিগ্রহনের টাকার জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করেছি। তবে এখন পর্যন্ত টাকা পায় নাই।
চারঘাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনন্দ কুমার জানান, গত ২০২২ সাল থেকে ’ক’ তালিকাভূক্ত ভেস্টেড প্রপার্টি (ভিপি) জমিটির অনলাইন চালু রয়েছে। ফ্লুইড ব্যবহারের বিষয়টি সঠিক নয়। তবে গত ১৫ মে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেনের নির্দেশনায় অনলাইনে হোল্ডিং বাতিল করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এবিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত স্বাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।


প্রকাশিত: May 31, 2025 | সময়: 4:18 am | সুমন শেখ