, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কলেজ হোস্টেলের অতিরিক্ত সিট ভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। কলেজ অধ্যক্ষকে ঘিরে ফেলেন তারা, দাবি আদায়ে নেয় সাফ ভাষায় অবস্থান। বুধবার বেলা ১১টায় রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ভবনের সামনে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মানববন্ধনে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে তারা কলেজ অধ্যক্ষের কাছে ভাড়া কমানোর জোর দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা জানান, আগে হোস্টেলের নির্ধারিত সিট ভাড়া ছিল ৫০০ টাকা। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই ভাড়া বাড়িয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে “সিন্ডিকেটের অংশ” বলেই দাবি শিক্ষার্থীদের।
অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগের সিট বাণিজয়ের সময়ে বিদ্যুৎ বিলসহ হোস্টেলের নানা খাতে বড় অঙ্কের টাকা বকেয়া পড়ে। বর্তমানে সেই বকেয়া শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়তি ভাড়ার মাধ্যমে।
আরও অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমানে হোস্টেলগুলোতে প্রিপেইড মিটার চালু থাকায় শুধু সিট ভাড়া নয়, মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলসহ একজন শিক্ষার্থীকে প্রায় এক হাজার টাকার উপরে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তারা উদাহরণ টেনে বলেন, রাজধানীর ঢাকা কলেজেও যেখানে সর্বোচ্চ খরচ হয়, সেখানে ভাড়া মাত্র ৪০০ টাকা। অথচ রাজশাহী কলেজ, যেটি দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি, সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শিক্ষার্থীদের জন্য চরম চাপ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনকে আগামী ২২ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) বলেন, আমরা যখন মুসলিম হোস্টেল সাজাতে সহযোগিতা করেছি, তখন বলা হয়েছিল, বিদ্যুৎ বিল ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য সাময়িকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে এবং এক বছরের মধ্যে তা কমানো হবে। এখন এক বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। কেন প্রতারণা করা হচ্ছে? তিনি আরও বলেন, আমরা চাই কলেজ প্রশাসন দ্রুত ও যৌক্তিক একটি সিট ভাড়া নির্ধারণ করুক।
এ বিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, এই ভাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তাই আমরা বাধ্য হয়েছি মানববন্ধনে দাঁড়াতে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজশাহী কলেজের হোস্টেল ব্যবসার জায়গা নয়, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আশ্রয়। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ জানান, আমরা আগামী ২২মে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবো। তাদের মতামত শুনেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।