সর্বশেষ সংবাদ :

মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে বৈশাখে প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি

স্টাফ রিপোর্টার: সূর্যের তাপে প্রকৃতি যেন পুড়ছে। রোদ ও গরমে প্রাণিকুলের হাঁসফাঁস অবস্থা। বৈশাখে প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। রাজশাহীতে শনিবার সকাল থেকেই যেন আগুন ঝরাতে শুরু করেছিল সূর্য। ঠাঁ ঠাঁ রোদে পুড়ছে শহর, মাঠ, গ্রাম।
সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজশাহী এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য অংশেও মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। একটু বৃষ্টি ও শীতল হাওয়ার পরশ পেতে সাধারণ মানুষ যেন ব্যকুল হয়ে উঠেছেন। বিকেলে আকাশের কোণে মেঘের দেখা মিললেও নেই স্বস্তি।
কদিন থেকে রাজশাহীর সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। কিন্তু শনিবার (১০ মে) রাজশাহীর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরিয়েছে। শনিবার বেলা ৩টায় রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এটিই এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে শুক্রবার রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অসহনীয় রোদ আর গরমে স্থবিরতা নেমে এসেছে কর্মজীবনেও। দিনের বেলায় দূরে থাক রাতেও গাছের পাতাও নড়ছে না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। তাই নাকাল হয়ে পড়েছে রাজশাহীর জনজীবন।
রাজশাহী মহানগরীর কয়েকদাঁড়া এলাকার রিকশাচালক শাহিন জানান, গরমে বেশিক্ষণ রিকশা চালানো যাচ্ছে না। মাথার উপরেও যেমন সূর্য তেঁতে আছে। তেমন পিচের রাস্তাও গরম হয়ে উঠেছে।
তীব্র তাপদাহের কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত রোগিদের সংখ্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের তিনটি শিশু ওয়ার্ডে যেন ধাপ ফেলার যায়গা নেই। এর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের দুর্ভোগ বেড়েছে এ তীব্র গরমে। তাই এ তীব্র তাপপ্রবাহের সময় বয়বৃদ্ধ ও শিশুদের রোদে না বের হয়ে ঠাণ্ডা পরিবেশের মধ্যে থাকার জন্য বলছেন চিকিৎকরা।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) রহিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহীর তাপমাত্রার পারদ কেবল ওপরেই উঠছে। বৃষ্টি না হলে এই তাপমাত্রা প্রশমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়া কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা ৩টায় রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শুক্রবার (৯মে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বেলা ৩টায় রাজশাহীতে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৪০ শতাংশ এবং ভোর ৬টায় ৪টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাধারণত তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে থেকে ৩৮ ডিগ্রি হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ বলে ধরা হয়। এছাড়া দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ফলে রাজশাহীর ওপর দিয়ে এখন তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা বাড়বে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগগুলোর দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। ফলে তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।
মঙ্গলবার এবং বুধবারও একই ধারা অব্যাহত থাকবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া বেশিরভাগ এলাকায় শুষ্কই থাকবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বা কিছুটা কমতে পারে।


প্রকাশিত: May 11, 2025 | সময়: 5:39 am | সুমন শেখ