, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: এবারে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল সনদ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এই অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হয়েছে। মীর মো. আব্দুল কাদের নামের এক ভূক্তভোগি ও মানবাধিকারকর্মী এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে কেশরহাট পৌর সভার নির্বাচনে সংরক্ষিত আসন-৩ এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জোবেদা বেগম ও মোমেনা আকতার। কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর অর্থের বিনিময়ে জন্মতারিখ ১৯৮৯ইং সাল দেখিয়ে মোমেনা আকতারকে ৮ম শ্রেণি পাশের সার্টিফিকেট প্রদান করেন। জাল সার্টিফিকেটের বিষয়ে নির্বাচন অফিসে আবেদন করলেও অফিস বিষয়টি আমলে নেননি। উপরোন্ত মোমেনা আকতারকে বিজয়ী ঘোষণা করে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জোবেদা বেগম আদালতে মামলা করেন। জেরার মুখে মোমেনা আকতার বলেন ১৯৯৯ সালে তিনি ৮ম শ্রেণি পাশ করেন এবং বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন মোমেনা আকতার ১৯৯০ সালে ৮ম শ্রেণি পাশ করেন। নির্বাচনী ট্রাইবুনাল ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সার্টিফিকেট জালিয়াতের জন্য মোমেনা আকতারকে অযোগ্য ঘোষণা করে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জোবেদা বেগমকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর তারিখে সংশোধিত গেজেটে নাম অন্তর্ভূক্ত হয়। পরবর্তী তিনি বিভাগীয় কমিশনারের নিকট শপথ গ্রহণ করেন।
জাল সনদ প্রদানে হয়রানির জন্য ভূক্তভোগিসহ তার স্বামী মীর মো. আব্দুল কাদের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে ২০০৭ সালের দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বগ্রহণ করেন শফিকুল ইসলাম। ২০০৯ সালে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়দের সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেই বিদ্যালয়ে দুর্নীতির জন্ম দিতে শুরু করেন। বাজার কেন্দ্রিক বিদ্যালয়ের রয়েছে কোটি কোটি টাকা আয়ের উৎস। কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবসায়িক বহুতল ভবন তৈরিতে অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ নেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি কেশরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের যথেষ্ঠ উন্নয়ন করেছি। যদি অনিয়ম দুর্নীতি করতাম তাহলে বিদ্যালয়ের নামে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ হতো না। ২৭টি দোকানঘর নির্মাণ হতো না। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষন্ন করতে এধরণের অভিযোগ করে চলেছে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বিরুদ্ধাচারণ না করে উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।