সর্বশেষ সংবাদ :

অধ্যক্ষের চেয়ার দখল নিয়ে উত্তেজনা : বড়াইগ্রামে তিনদিন ধরে পাল্টাাপাল্টি মারপিট, অফিস দখলে শিক্ষা ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার, বড়াইগ্রাম: বড়াইগ্রামের রাজাপুর ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষের পুনর্বহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গত তিনদিন ধরে অধ্যেক্ষের পক্ষে বিপক্ষে শিক্ষক-কর্মচারীদের পালটাপালটি অফিস দখল, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, মারপিট ও মামলার ঘটনায় কলেজের শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, গত জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র-জনতা আওয়ামী সমর্থিত স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তুঘলককে কলেজ থেকে বের করে দেয়। পরে গভর্নিং বডি তাকে তিন মাসের বাধ্যতামুলক ছুটি দিয়ে উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। কিন্তু ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও অধ্যক্ষ কলেজে আসতে পারছিলেন না।
মঙ্গলবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের অফিস কক্ষে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে দফায় দফায় মারপিটসহ ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার অধ্যক্ষ তুঘলকের অনুসারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে মানববন্ধন শেষে লাঠিসোটা নিয়ে কলেজে ঢুকে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে কলেজ থেকে বের করে দিয়ে দীর্ঘ নয় মাস পর মোহাম্মদ তুঘলককে অধ্যক্ষের চেয়ার বসান।
এদিকে, বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তুঘলকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যেক্ষের অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিলসহ কলেজ ক্যাম্পাসে যান। এ সময় খবর পেয়ে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তুঘলক কলেজ থেকে পালিয়ে গেলে পুনরায় উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করেন।
কলেজের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা ও তৌফিকুর রহমান জানান, গত ৯ মাস ধরেই অধ্যক্ষের চেয়ার দখল নিয়ে নানামুখী তৎপরতা চলছে। কিন্তু সম্প্রতি স্যার ও কর্মচারীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেভাবে মিছিল, মিটিং, মারামারি করছেন এতে আমাদের লেখাপড়ার বিঘ্ন ঘটছে। আমরা শিক্ষার্থীরা এতে রীতিমত বিব্রত ও লজ্জিত।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, আমিই কলেজের বৈধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তাই গভর্নিং বডি আজ আমাকে অধ্যেক্ষের চেয়ারে বসিয়েছে। এর আগে বুধবার অধ্যেক্ষের সমর্থকরা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়, যার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তুঘলক বলেন, তিন মাসের বাধ্যতামুলক ছুটি শেষ হলেও আমাকে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। তাই আমি শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সহায়তায় কলেজের ফিরেছিলাম। কিন্তু একদিন পরই তারা আবার সন্ত্রাসী কায়দায় কলেজের দখল নেয়ার চেষ্টা করছে।
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক শামসুল আলম রনি বলেন, বিতাড়িত অধ্যক্ষ কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। নিয়মানুযায়ী আমরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব পালন করতে বলেছি।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান বলেন, মারপিট ও ভাংচুরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: April 11, 2025 | সময়: 4:35 am | সুমন শেখ

আরও খবর