বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় একটি মামলার স্বাক্ষী দেয়া প্রতিহিত করতে অবশেষে স্বাক্ষীর ১৪ বছরের এক শিশুপুত্রকে মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় মৌজার ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মৃত নসির সরকারের পুত্র অবসরপ্রাপ্ত আর্মি সৈনিক আব্দুল আজিজ সরকার তার পুত্র শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করা হলে বিগত ২০২২ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর থানায় আব্দুস ছামাদ মাস্টারের দুই পুত্র মাহবুব মজনু (৪৭), মিজানুর রহমান মিঠু (৩২), আব্দুল মজিদের পুত্র সিরাজুল ইসলাম (৪৭), রহিমল মিয়ার দুই পুত্র আক্তার হোসেন (৩৭) ও আব্দুর রশিদ (৪৯), আজিজুল হকের পুত্র আপেল মিয়া (৪৪) এবং আজিজুল হক (৫৭) সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আগামি ২০ এপ্রিল আদালতে উক্ত মামলার স্বাক্ষীর দিন ধার্য রয়েছে।
স্বাক্ষীরা যাতে আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে না পারে সেটি প্রতিহত করতে উল্লেখিত মামলার আসামিরা বেশ কয়েক দিন হতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে এবং উক্ত মামলার ৭ নং স্বাক্ষী বিপ্লব ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় অবশেষে স্বাক্ষী বিপ্লবের শিশুপুত্র ফারদি (১৪)’ কে গোড়াই রঘুরায়হাট সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভ্যান্তরে শিশুটিকে রফিকুল ইসলাম, পিতা মনির উদ্দিনের হুকুমে মাহাবুবার রহমান মজনু পিতা সামাদ মাস্টার, আক্তারুল ইসলাম, পিতা রহিমল, মিজানুর রহমান মিঠু (২৫), পিতা সামাদ আলী, শিশুটিকে মারপিট করে আহত করার সময় স্বাক্ষীদের ধাওয়া খেয়ে স্কুলমাঠে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় স্বাক্ষীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে রেখে আসে।
এ অবস্থায় শিশুটি থেমে থেমে বমি করায় তার মা ফেরদৌসী বেগম তার স্বামী বিপ্লবের অবর্তমানে শহরের এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় শিশুটিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। শিশুটি এখন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের ২নং ওয়ার্ডের ফ্লোরে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রায় সজ্ঞাহীন শিশুটির মা ফেরদৌসী বেগম জানিয়েছে, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় যাতে কোন মামলা দায়ের করা না হয় এজন্য তাকে এবং ঢাকায় বাস কাউন্টারে চাকুরীরত তার স্বামীকে মোবাইলে জীবন নাশের হুমকি সহ তাদের ছেলেকে গুম করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও স্বাক্ষীরা জানান, বিবাদীরা একটি দলের ছাত্র ছায়ায় গ্রাম থেকে শহরে অরাজকতার সৃষ্টি করছে। বিবাদীরা এলাকায় দাঙ্গাবাজ হিসেবে চিহ্নিত। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাদী উলিপুর থানায় স্বাক্ষীকে আাদালতে স্বাক্ষ্য প্রদানে বাধা এবং শিশু নির্যাতনের মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।