সর্বশেষ সংবাদ :

বাগমারায় মৎস্য ব্যবসায়ী খুন ও জনতার পিটুনিতে নিহতের ঘটনায় দুটি মামলা, আসামী সহস্রাধীক

স্টাফ রির্পোটার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় আব্দুর রাজ্জাক (৩৫) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা ঘটনায় মাদক সেবী আমিনুল ইসলামকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেছেন নিহতের বড় ভাই একরাম হোসেন। শুক্রবার গভীর রাতে বাগমারা থানায় উপস্থিত হয়ে একরাম হোসেন তার ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাককে হত্যার ঘটনায় মামলাটি দায়ের করেন। তিনি পাশ্ববর্তী নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার গোয়ালবাড়ী গ্রামের মিঠু প্রামনিকের ছেলে।
অপর দিকে জনতার হাতে নিহত মাদক সেবী আমিনুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বাগমারা থানার উপপরিদর্শক গনি চৌধুরী।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বাগমারার রনশিবাড়ি বাজারের নজরুলের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। বিকেল ৬টার দিকে একই গ্রামের ঝড়ু প্রামাণিকের বখাটে ছেলে আমিনুল ইসলাম দোকানের ভেতরেই ঢোকে আব্দুর রাজ্জাককে চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালানোর চেষ্টা করে। লোকজন টের পেয়ে তাকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে আমিনুল ইসলাম রনশিবাড়ি গ্রামেরই আব্দুর রশিদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িটি ঘিরে রাখে।
খবর পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে লোকজনের বাধায় ব্যর্থ হয়। লোকজন কয়েক দফা বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তারা খুনিকে নিজেরা বিচার করার জন্য তাদের হাতে তুলে দিয়ে পুলিশকে চলে যেতে বলে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশ বাধা দিলে উপপরিদর্শক সাদিকুল ইসলামসহ ছয় পুলিশকে লাঞ্চিত ও মারপিট করে। লোকজন ভেতরে ঢুকে বাড়ি থেকে ওই তরুণকে বাইরে নিয়ে এসে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনায় নিহত আব্দুর রাজ্জাকের বড় ভাই একরাম হোসেন ও পুলিশ বাদী হয়ে থানায় পৃথক পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।


প্রকাশিত: April 6, 2025 | সময়: 4:05 am | সুমন শেখ

আরও খবর