সর্বশেষ সংবাদ :

বিনোদনের নতুন ঠিকানা পদ্মার চর

সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মার পানি শুকিয়ে জেগে উঠেছে বিশাল চর। এই নতুন চরই এবার ঈদের ছুটিতে মানুষের বিনোদনের নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছিল। পদ্মার পাড়জুড়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে উৎসবমুখর পরিবেশ। চর পেরিয়ে নদীতে গিয়ে তারা নৌকায় চড়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ান, নদীর বাতাসে প্রাণ জুড়ান, আর পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করেন ঈদের আনন্দ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার এই বিশাল চরে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য নৈসর্গিক দৃশ্য, যা সহজেই যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মন কেড়ে নেয়। অনেকে বলছেন, এটি যেন এক ‘মিনি কক্সবাজার’। নদীর বালুচর আর বয়ে চলা বাতাসের কারণে এই জায়গাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পদ্মার এই চর দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলওয়ে বাজার এলাকার বাসিন্দা শামসুজ্জামান সজল বলেন, ‘একসময় পদ্মার উত্তাল ঢেউ আর গর্জন ছিল মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু কালের বিবর্তনে নদী তার সেই রূপ হারালেও, নতুনভাবে বিনোদনের স্থান হয়ে উঠেছে এই চর।’
মঙ্গলবার ১ এপ্রিল গোদাগাড়ী সদর থেকে রেলবাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা তীরজুড়ে মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছে। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে আসা মানুষ ঈদের আনন্দে ভাসছেন। কেউ নদীতে নেমে গোসল করছেন, কেউবা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আবার কেউ বালুর চরে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় ঘুরতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পদ্মার এই নতুন চর আমাদের কাছে এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নদীতে নেমে গোসল করলাম, নৌকা ভ্রমণ করলাম-সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি!’
ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা জুয়েল বলেন, ‘শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এমন জায়গার দরকার ছিল। নদীর পাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ, বাতাস, প্রকৃতির সৌন্দর্যসব মিলিয়ে এটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। কক্সবাজারের মতো অনুভূতি হয় এখানে এসে।’
পদ্মার বুকে জেগে ওঠা এই চর নতুনভাবে গোদাগাড়ীর পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ। আগামীর বর্ষায় চর ডুবে যাবে। নদী ভরে উঠবে পানিতে। তবে আপাতত এটি বিনোদনপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।


প্রকাশিত: April 4, 2025 | সময়: 2:54 am | সুমন শেখ

আরও খবর