সর্বশেষ সংবাদ :

বিকল্প জ্বালানি পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনা: জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে বছরে ব্যায় সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে যে পরিমান জ্বালানি ব্যবহার করা হয় তার ৮৩ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি। যার পুুরোটাই বাহিরের দেশ থেকে আমদানি করাতে হয়। আর এ আমদানিতে ব্যয় হয় ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। শুধু তাই না এ জীবান্ম জ্বালানি ব্যবহারে যে কার্বন নির্গত হয় তাতে ক্ষতি বেশ। জ্বালানি কিনতে এ বিপুল অর্থ ব্যয় হয় তা রোধ ও প্রকৃতির তুলনামুলক কম ক্ষতির যেন হয় এ বিষয়ে বিকল্প জ্বালানি পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকার একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যৌথভাবে সভার আয়োজন করে বেসরকারী সংস্থা পরিবর্তন-রাজশাহী, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং বিডব্লিউজিইডি। সভায় জ্বালানি খাতের বিকল্প সম্ভাবনা, স্বল্প-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত এক সময় ফুরিয়ে যাবে। তাই এখন থেকেই সৌর বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকতে হবে। এ জন্য সরকারকেও ভর্তুকি দিতে হবে। সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এই খাতকে আমদানিনির্ভর করে রাখা লাগবে না। পাশাপাশি সভায় বক্তারা দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকি তুলে ধরে এ প্রকল্পের সমালোচনা করেন।
সভায় বিকল্প জ্বালানি পরিকল্পনা বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্লিন-এর প্রধান সমন্বয়কারী মাহবুব আলম প্রিন্স এবং প্রচারাভিযান সমন্বয়কারী সাদিয়া রওশন অধরা। সাদিয়া রওশন বলেন, দেশের বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতি বছর ৬.৫ থেকে ৮.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৫ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৪ শতাংশে-এ নেমে আসতে পারে। এ অনুসারে, বিদ্যুৎ চাহিদা ২০৩০ সালে ১২৮ টেরাওয়াট-ঘন্টা, ২০৪১ সালে ২৩১ টেরাওয়াট-ঘন্টা এবং ২০৫০ সালে ৩১৮ টেরাওয়াট-ঘন্টায় পৌঁছাতে পারে।’
মাহবুব আলম প্রিন্স বলেন, দেশের শিল্পখাতের ছাদ ব্যবহার করে ৫ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব, যা বছরে ৮ হাজার ১০০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। একইভাবে আবাসিক ভবনের ছাদে বছরে ৪৮ হাজার ৬২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।’
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহিনুল হাসান। অতিথি রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সপ্তর্ষী পাল, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএনকে নোমান ও ক্যাবের রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। সভা সঞ্চালনা করেন পরিবর্তনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদ ইবনে ওবায়েদ রিপন।


প্রকাশিত: March 25, 2025 | সময়: 3:15 am | সুমন শেখ

আরও খবর