সর্বশেষ সংবাদ :

মাহে রজমান

এ বছর রমজান মাস কি আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরে আসার মৌসুম হবে, এবং নিজের হিসাব নিকাশের সুযোগ করে দেবে, আর আল্লাহর সামনে নিজের গোনাহের ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ করে দেবে?
সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য সত্যিকারভাবে ইসলামী জীবন যাপন করার সুযোগ এনে দেবে কি এ মহান মাস?
এ মাস কে দাওয়াত দানকারীগণ তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দৃষ্টি-ভঙ্গি পাল্টিয়ে নুতন করে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। এ কথা চিন্তা করে যে, তারা সর্বোত্তম দাওয়াতের দায়িত্ব পালনকারী। এবং তারা অতি উত্তম উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন। তারা নিজের সত্তার চিন্তা এবং তার জন্য ঘোরাফেরা করা থেকে মুক্ত হয়ে শুধু আল্লাহর নিকট যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী মনে করে কাজ করবে।
এ মাসটি প্রত্যেক মুসলমান তার মুসলমান ভাইকে সাহায্য করার মাস হিসাবে গ্রহণ করতে পারে। হোক না সে অত্যাচারী অথবা অত্যাচারিত। অত্যাচারীর অত্যাচার প্রতিরোধ করে তাকে সাহায্য করবে। অত্যাচারিতকে সাহয্য করবে তার সহযোগিতার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে মুসলমান সমাজে সর্বত্র ভাল পরিবেশ তৈরী হবে।
এ মাসটি ধনী এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবন যাপনকারীদের জন্যও বিরাট সুযোগ। তাদের কাজ-কর্ম এবং অনুভূতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা যেন দরিদ্রদের প্রয়োজন ও ব্যথা অনুভব করতে পারে। নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। আল্লাহ যে পথে ব্যয় করতে সম্পদ দিয়েছেন সে পথে তারা সম্পদ ব্যয় করতে পারে। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যারা ক্ষুধার্ত আছে তাদের বাঁচাতে তারা যেন এগিয়ে আসতে পারে। তারা যদি তাদের ক্ষুধার্তদেরকে না খাওয়ায়, বস্ত্রহীনদেরকে বস্ত্র না দেয় আর দুর্বলদেরকে সাহায্য না করে মনে করতে হবে তাদের ঈমান বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে।
রমজান আমাদের নিজেদের জন্য এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বনের সুযোগ এনে দেয় যার মাধ্যমে ইসলামী ভাবধারায় অভ্যস্ত হতে পারি। সকলের হাত, পা, চোখ, কান, জিহবা, মুসলমান হয়ে যাবে। যখনই এ সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ নড়া-চড়া করবে তার সৃস্টিকর্তার ইচ্ছা অনুযায়ী করবে । হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, আমি তাকে ভালবাসি। যখন আমি তাকে ভালবাসি সে আমার কান হয়ে যায় যা দিয়ে সে শোনে। আমার চক্ষু হয়ে যায় যা দিয়ে সে দেখে। হাত হয়ে যায় যা দিয়ে সে ধরে। পা হয়ে যায় যা দিয় সে চলে। (বুখারী)।
এ সমস্ত কিছু রমজানের পাঠশালায় অর্জন করা সম্ভব। যে রমজান আমাদেরকে দৃঢ়তা অবলম্বন ও সত্য গ্রহণের শিক্ষা দেয়। যার মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তির সমস্ত দেয়াল ভেঙ্গে যায়। খারাপের ইচ্ছা নষ্ট হয়ে যায়।
সে দৃঢ়তা এবং সুক্ষ্ম নিয়ম কি? যার মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীর মুমিনদেরকে দেখা যায় যে, তারা নির্দিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত হচ্ছে আবার নির্দিষ্ট সময় পানাহার করছে। অত:পর নিজের নফসকে কুপ্রবৃত্তির মধ্যে পতিত হওয়া অথবা পথভ্রষ্টতার বাতাসে ভেসে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারছে। সে তো কুপ্রবৃত্তি এবং কামনার উদ্রেককারীকে না বলে দেবে। আর এই না বলা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী হয় তাহলে খুব ভাল হয়। সে অশ্লীল কাজ করবে না। ঝগড়া করবে না। উচু স্বরে কথা বলবে না। কোন মূর্খ যদি তার অনুভূতিকে আহত করে ও তার ভিতরের খারাপ জিনিসকে জাগিয়ে তোলে তবুও সে বলবে, আমি সিয়াম পালনকারী।


প্রকাশিত: March 9, 2025 | সময়: 5:07 am | সুমন শেখ